সম্প্রতি “আসুন মাসিক নিয়ে কথা বলি” শিরোনামে একটি গোলটেবিল আলোচনা বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে গণমাধ্যম, এনজিও এবং তথাকথিত সমাজ উন্নয়নকর্মীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজনে যুক্ত ছিলো Simavi, WaterAid, এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্র “প্রথম আলো”। বাইরের দৃষ্টিতে বিষয়টি নারীস্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বলে মনে হলেও, গভীরে গেলে দেখা যায়, এটি নিছক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত পশ্চিমা এজেন্ডার অংশ।
নারীর গোপনীয়তা বনাম অশ্লীল স্বাভাবিকতা
ইসলাম নারীর পবিত্রতা ও ব্যক্তিগত গোপন বিষয়কে মর্যাদা দিয়েছে। অথচ এইসব সম্মেলনে পিরিয়ড বা মাসিকের মতো সংবেদনশীল ও গোপন বিষয়কে ঢালাওভাবে “স্বাভাবিকতা”র নামে সর্বজনীন আলাপের বিষয় বানানো হচ্ছে। পিরিয়ড নারীর শরীরগত একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া—একটি ব্যক্তিগত বিষয়, যা প্রকাশ্যে আনা কিংবা তা নিয়ে মিডিয়ায় হেডলাইন বানানো কখনোই সভ্যতার নিদর্শন নয়। বরং এটি ধীরে ধীরে বেহায়াপনার একটি নতুন সংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা।
আন্তর্জাতিক এনজিও ও পশ্চিমা অর্থায়নের ভূমিকা
এই ধরনের সম্মেলনের পেছনে থাকে বিদেশি ফান্ড, পশ্চিমা এনজিও, এবং তথাকথিত ‘উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান’—যারা মূলত বাংলাদেশের ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে একটি উন্মুক্ত, লজ্জাহীন সমাজ গঠনের দিকে দেশকে ঠেলে দিতে চায়।এই এনজিওগুলো নারীর নাম করে মেয়েদের এমন একটি অবস্থানে দাঁড় করাতে চায়, যেখানে তাদের নিজস্বতা, গোপনীয়তা, পারিবারিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয় এবং পশ্চিমা ভোগবাদী সংস্কৃতির উপযোগী হয়ে ওঠে।
প্রথম আলোর ভূমিকা
মিডিয়া না, মতাদর্শের বাহক?বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পত্রিকা “প্রথম আলো” বরাবরই ধর্ম, ইসলাম, কুরআন, হিজাব, রোজা, ঈমানদার মানুষের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এবার তারা সরাসরি এই ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করে নারীর সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশার মঞ্চ তৈরি করেছে। প্রশ্ন হলো: এই মিডিয়ার আসল উদ্দেশ্য কী? সমাজ সংস্কার, নাকি পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়ন?
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্মেলনের মূল্যায়ন
কুরআন এবং হাদীস বারবার নারীকে সংরক্ষণশীল জীবন যাপনের নির্দেশ দিয়েছে। মাসিককালীন নারীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও ইসলামে নির্দেশনা রয়েছে, তবে তা সীমাবদ্ধ, ব্যক্তিগত ও মর্যাদার বিষয় হিসেবে উপস্থাপিত।অথচ এই সম্মেলনে কুরআনের সেই নির্দেশনার বিপরীতে গিয়ে মাসিককে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন এটি একটা গর্ব করার বিষয়!
এই সম্মেলন শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসচেতনতা নয়, বরং নারীর গোপনীয়তা ধ্বংস, সমাজে লজ্জাহীনতা বৃদ্ধি এবং মুসলিম নারীদের চরিত্রহীন করে তোলার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এটি পশ্চিমা ফেমিনিজম ও এনজিও এজেন্ডার ফলাফল, যা ইসলামী সমাজের শত্রু। মুসলিম সমাজের দায়িত্ব এখনই সচেতন হওয়া। নয়তো আগামী প্রজন্ম নারী-পুরুষের সীমা ভুলে যাবে, পরিবার হারাবে পবিত্রতা, সমাজ হারাবে শালীনতা।
সূত্র: TBN Desk