বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? ভারতে বাংলাভাষীদের ওপর নতুন বৈষম্যের তাণ্ডব!
বাংলা ভাষা এখন অপরাধ!
হ্যাঁ, আপনি ভুল পড়েননি।
আজকের ভারতে যদি কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাংলায় কথা বলেন, তাহলে আপনাকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ট্যাগ লাগিয়ে তাড়া করা হতে পারে, এমনকি আটকও! এটাই এখনকার বাস্তবতা।
দিল্লি, আসাম, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, ওড়িশা — এমন অনেক রাজ্যেই চলছে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে এক অব্যক্ত কিন্তু ভয়ঙ্কর আগ্রাসন। শুধু কথা বলার ভাষা বাংলা — এই কারণেই বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলা বলার অপরাধে ৩৫০ জন মানুষকে পর্যন্ত আটক করার অভিযোগ উঠেছে ওড়িশায়। এটাই কী ভারতের গণতন্ত্র? নাকি জাতিবিদ্বেষের নতুন রূপ?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায়: ‘বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন, কারণ শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় — সারা ভারতের বাঙালিরা এখন আতঙ্কে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা তো আর এক ধাপ এগিয়ে বলে দিয়েছেন—জনগণনায় কেউ বাংলা ভাষাকে ‘মাতৃভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করলে তাকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে! এটা শুধু অমানবিক না, সরাসরি ভারতীয় সংবিধানকে অপমান করার শামিল। বাংলা মানেই বাংলাদেশি? প্রশ্নটা এখন বাঙালির অস্তিত্বের প্রশ্ন।
এই কি তবে ভারতের নতুন চেহারা? যেখানে বাংলা ভাষাকে ‘বিদেশি’ বানিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদেরই ঠেলে দেওয়া হয় সীমান্তের ওপারে?
ভারতের মাটিতে বাংলা ভাষার প্রতি এই বিদ্বেষমূলক আচরণ, নিছক ভুল না — এটা একটা পরিকল্পিত বৈষম্য। ভাষা, জাতীয়তা ও পরিচয়ের বিরুদ্ধে এ এক নীরব যুদ্ধ।
আমাদের জেগে উঠতে হবে। এখনই। একটা জাতির পরিচয় তার ভাষা দিয়েই গড়ে ওঠে। আর সেই ভাষাই যদি কারো কাছে আজ অপরাধ হয়, তাহলে আমাদের চুপ থাকা মানে আত্মহত্যার সামিল।
সূত্র- দেশ টিভি