টঙ্গী, ৫ এপ্রিল ২০২৫:
“আমার বোন কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। সে ধার্মিক, নামাজি, আর তার দুইটি ছোট সন্তান রয়েছে। কিভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে?” — কান্নায় ভেঙে পড়া ভাইয়ের আর্তনাদ।
টঙ্গী রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গতকাল সকালে ট্রেন দুর্ঘটনায় শামীমা আক্তার সাথী (৩২) নামের এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা। তবে পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহতার ভাই জানান, তাদের মা দশ মাস আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে মা কিছু টাকা রেখে যান দুই ছেলের জন্য। সেই টাকার ভাগ পাওয়ার জন্য শামীমার স্বামী তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বোন স্বামীর ঘর ছাড়তে রাজি হননি। ঈদের আগের দিন বোন ও তার দুই শিশুপুত্রকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বলা হয়—“টাকা নিয়ে না এলে বাড়িতে ঢুকতে দিবো না, খালি হাতে এলে মেরে ফেলবো।”
ভাই বলেন, “৫ এপ্রিল সকালে ফজরের নামাজ পড়ে এক কাপড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় আমার বোন। সে সাধারণত বোরকা ছাড়া বের হয় না, ফোনও নেয়নি। দুপুর ১১টার পরে খবর পাই সে কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।”
পরে দুপুর ৩টায় গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা দেন ভাইরা। রাত ১০টার পর টঙ্গী রেলস্টেশন থানায় গিয়ে জানতে পারেন, সকালবেলায় একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন শামীমা আক্তার সাথী।
পরিবারের দাবি, “এটি আত্মহত্যা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” তারা বিষয়টি গভীর তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন — “আমরা বিচার চাই, আমার বোনকে যারা নির্যাতন করেছে, যারা এমন পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের যেনো শাস্তি হয়।”