চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৫ | TBN desk |
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক কুশল চক্রবর্তীকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্রসমাজে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ভারতের হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থী সংগঠন আরএসএস ও বিজেপির ছাত্র সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পর্ক রাখেন এবং বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদে বহাল রয়েছেন।
ছাত্রছাত্রীরা সম্প্রতি তার প্রোমোশন রোধে প্রতিবাদ জানালে, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং হিন্দুত্ববাদী মিডিয়া গলা ফাটিয়ে তাকে ‘ভিক্টিম’ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চালায়। অথচ কুশলের বিভিন্ন কার্যকলাপ এবং অনলাইন পোস্ট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে উঠে তার সাম্প্রদায়িক এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী মনোভাব।

১ নম্বর চিত্র: নম্বর ছবিতে কুশালকে দেখতে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কুখ্যাত কুলাঙ্গার Nahidrains এর সাথে। অনলাইনে রাজনীতি নিয়ে খোঁজখবর রাখেন, যেকেউ চিনবেন এই কুলাঙ্গারকে। তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়েও এক সময় খুব কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে আলোচনায় এসেছিল সে। তার সাথে কুশালের ভালোই সখ্যতা।

২ নম্বর চিত্র: নম্বর ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন জুলাই আন্দোলনে তার দেয়া পোস্ট। যখন ছাত্রছাত্রীরা ‘তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে আন্দোলন করছিল তখন সে তাদের বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়। পরে পোস্ট ডিলিট দেয়। আপনি তার প্রোফাইলে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেখলে দেখবেন কোনো পোস্ট পাবেন না, কারণ সবগুলো পোস্ট সে ডিলিট করে দেয়।

৩ নম্বর চিত্র: নম্বর ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, এক লোক হাসিনা, আওয়ামী লীগ আর মুজিবের বিরুদ্ধে পোস্ট দিলে সে ওই লোকের পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে পোস্ট দেয় আর ফ্যাসিস্ট হাসিনার বাহিনীকে আহ্বান জানায় যেন ওই পোস্টের কারণে জেল ভরে। এখান থেকেই তাহলে বুঝতে পারছেন জুলাইয়ে ছাত্রদের বিরুদ্ধে কেন পোস্ট দিয়েছিল। অথচ সে এখনো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বহাল তবিয়তে আছে।

৪ নম্বর চিত্র: নম্বর ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন আরএসএস-এর ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (AVBP) র্যালিতে সে যোগদান করে। AVBP কী বোঝার জন্য আপনাকে সহজ একটা কথা বলি, আওয়ামী লীগের যেমন ছাত্রলীগ ছিল, আরএসএস আর বিজেপির আছে AVBP। ক্যাম্পাসে অন্যান্য ধর্মের বা অন্য সংগঠনের উপর আক্রমণ করার জন্য কুখ্যাত এই AVBP। অনলাইনে সার্চ দিলেই অজস্র আর্টিকেল পাবেন এদের নিয়ে। AVBP-এর অনুকরণে বাংলাদেশেও সে ‘সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ’ নামের সংগঠন খুলে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে রিক্রুট করছে।

৫ নম্বর চিত্র: নম্বর ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন বিজেপির এমপির সাথে তার কানেকশন। এটাতো শুধু একটা উদাহরণ। তার প্রোফাইল ভর্তি আরএসএস নেতা আর বিজেপি মন্ত্রীদের সাথে ছবি। বাংলাদেশের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও কীভাবে ভারতের বিশাল আরএসএস ও বিজেপির নেতাদের সাথে কানেকশন থাকে, তা যে নিঃসন্দেহে তার আরএসএস কানেকশন প্রকাশ করে তা আর বলতে হয় না।


৬ ও ৭ নম্বর চিত্র: নম্বর ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের অনলাইন কর্মী পুষ্পিতা, যে কিনা শাহরিয়ার কবিরের গ্রেফতারের পর বিদেশে বসে সম্মেলন করে তার পোস্ট শেয়ার দেয় ‘দিদি’ বলে। এই পুষ্পিতা আওয়ামী লীগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম A-Team-এর প্রথমসারির কর্মী sushanto গং-এর সাথে কাজ করে। বাংলাদেশ নিয়ে বিদেশে যত অপপ্রচার তার লিড দেয় এই সুশান্ত আর পুষ্পিতারা। অর্থাৎ আরএসএস, বিজেপি, আওয়ামী লীগ – প্রতিটি বাংলাদেশবিদ্বেষী দলের সাথেই তার কানেকশন।
ছাত্রদের প্রশ্ন: একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে এতগুলো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় বহাল থাকতে পারে? বিশেষত, যখন তার কার্যকলাপ সরাসরি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ও ছাত্র রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে?
শিক্ষার্থীদের আহ্বান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন ছাত্রসমাজ এই হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদী এজেন্টের অপসারণ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে
Source— Bhumiputro ভূমিপুত্র