TBN desk || মাহির হোসেন মেহেদী || ৯ ইং জুলাই ২০২৫ ||
একটি বই, যার প্রচ্ছদ ঝকঝকে। অনুবাদ করা হয়েছে ইংরেজি থেকে বাংলায়। একে ডাকা হচ্ছে ‘ডার্ক রোমান্স’, কেউ বলছে ‘আধুনিক প্রেমের গল্প’। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভয়ংকর। বইয়ের নাম — “Fifty Shades of Grey”। এটি শুধুমাত্র একটি বই নয়, বরং পশ্চিমা অশ্লীল সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও বিকৃত যৌন আচরণকে গ্ল্যামারাইজ করার একটি ছদ্মবেশ।
• বইটির প্রকৃতি কী?
“Fifty Shades of Grey” এবং বিকৃত যৌনতার গ্ল্যামারাইজেশন – বিস্তারিত বিশ্লেষণ
১. অবিবাহিত সম্পর্কের খোলামেলা যৌন বর্ণনা
এই বইয়ে বিয়ে ছাড়া নারী-পুরুষের ঘনিষ্ঠতা শুধু দেখানোই হয়নি, বরং সেটিকে রোমান্টিক ও স্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে: বিস্তারিত শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য, যা ইসলামের দৃষ্টিতে স্পষ্টভাবে হারাম ।চরিত্রগুলো তাদের বিয়ে ছাড়াই যৌন সম্পর্কে জড়াচ্ছে, এবং এতে পাঠকের মধ্যে নৈতিকতা ভেঙে পড়ছে
এটা শুধু একটি দৃশ্য বা কল্পনা নয় — বরং এইসব “আধুনিক গল্প” তরুণ-তরুণীদের মনে হারাম সম্পর্ককে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
২. BDSM – বিকৃত যৌনতা ও মানসিক বিকলতা
BDSM মানে হলো—
Bondage: শারীরিকভাবে কাউকে বেঁধে রাখা
Discipline: শাস্তি প্রদান
Sadism: অপরকে ব্যথা দিয়ে আনন্দ পাওয়া
Masochism: নিজে ব্যথা পেয়ে আনন্দ পাওয়া
এই বইয়ে BDSM কে “ভালোবাসা”, “বিশ্বাস” এবং “অনুভব” বলেই উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে এটা যৌন নিপীড়নের বিকৃতরূপ, যেখানে একজন মানুষ অপরকে দাসের মতো ব্যবহার করে। বইটির নায়ক Christian Grey তার সঙ্গিনীকে “contract” সাইন করায়, যেন সে নিজের শরীর ও ইচ্ছাকে তার দখলে দিতে পারে — অর্থাৎ সম্পূর্ণ দাসত্বের বৈধতা।
এর ফলে বইটি পাঠককে শেখায়: “ভালোবাসা মানেই নিয়ন্ত্রণ, অত্যাচার, আর যৌন শোষণের সুযোগ।”
৩. মানসিক চাপ ও আধিপত্যের রোমান্স হিসেবে উপস্থাপন
বইয়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে ভয়, মানসিক প্রভাব, অর্থনৈতিক নির্ভরতা ইত্যাদির ওপর। নাটকীয়ভাবে দেখানো হয়:
“তুমি আমার অধীন, তুমি আমার সম্পত্তি”
“আমি চাই, তুমি আমায় নিয়ন্ত্রণ করতে দাও”
এটি পাঠকের মনের ভেতর “টক্সিক রিলেশনশিপ” কে স্বাভাবিক করে তোলে, এবং নারীকে উপস্থাপন করে ভোগ্য পণ্য হিসেবে। এমন বই পড়া কিশোর-কিশোরী মনে সুস্থ সম্পর্কের ধারণা নষ্ট করে, এবং ভবিষ্যতে তারা চায় তীব্র, দমনমূলক সম্পর্ক, যা আত্মিকভাবে ধ্বংসাত্মক।
• বাস্তব প্রভাব (True Impact):
অতএব: > এই বই রোমান্স নয় — এটি বিকৃত যৌন আগ্রাসনের ছদ্মবেশ। সম্পর্ক নয় — এটি আধিপত্য ও মানসিক দাসত্বের গ্ল্যামারাইজড পাঠ।
এবং বাংলাদেশের মতো মুসলিম সমাজে এই বই ছড়িয়ে পড়া নৈতিকতার সর্বনাশ, যা শুধু আমাদের প্রজন্ম নয়, পুরো সামাজিক কাঠামো ধ্বংস করে দেবে।
• কেন এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিপজ্জনক?
বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যেখানে পরিবারকেন্দ্রিক মূল্যবোধ, লজ্জা-শরম, নৈতিকতা — এসব আমাদের সমাজের ভিত্তি। কিন্তু এই ধরনের বই: তরুণদের চরিত্র ধ্বংস করতে সহায়ক
• বড় বড় বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান কী করছে?
নাম উল্লেখ না করলেও দেশের শীর্ষ অনলাইন বই বিক্রয়কারী প্ল্যাটফর্ম এবং বড় প্রকাশনাগুলোর অনেকেই ইতিমধ্যে এই বইয়ের প্রি-অর্ডার চালু করেছে! তারা “বেস্টসেলার”, “আধুনিক রোমান্স”, “আলোকিত লেখনী” এই শব্দগুলো ব্যবহার করে একটি অশ্লীল, বিকৃত, ও সমাজবিরোধী বইকে বৈধতা দিতে চেষ্টা করছে।
• বাংলাদেশে এই বই বিক্রি কি আইনসম্মত?
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ২৯২ অনুযায়ী—
> “অশ্লীল বই, ছবি, লেখা বা অন্য কোনো বস্তু বিক্রি, প্রচার বা মুদ্রণ দণ্ডনীয় অপরাধ।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর আওতায়: অনলাইনে অশ্লীল বিষয় ছড়ানো বা বিক্রি করাও অপরাধ।
• বাস্তব প্রভাব কী?
এই বই যারা পড়ে, তাদের অনেকেই পরে সাধারণ সাহিত্যের পাঠক না হয়ে চটি বইয়ের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। কারণ, এই ধরণের বই সাহিত্য নয়, উত্তেজনার ব্যবসা। ফলাফল হয়:
• আমাদের করণীয় কী?
সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা ছড়ান
ফেসবুক/ইউটিউবে প্রতিবাদ ভিডিও বানান| আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন কেউ
একটি জনস্বার্থে রিট করা যায় সুপ্রিম কোর্টে। সাইবার ক্রাইম বিভাগে রিপোর্ট করা যায় এই বই অনলাইনে বিক্রির বিরুদ্ধে
অনলাইন আন্দোলনের পাশাপাশি, একটি আইনি নোটিশ দিয়েও থামানো যায় অনেক সময়
“Fifty Shades of Grey” আমাদের বইয়ের বাজারে ঢুকছে ‘ভদ্র’ মুখোশে। কিন্তু ভিতরে বিষ। এটি শুধু ইসলাম নয়, বরং নৈতিকতা, পরিবার, ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এখন যদি কেউ না দাঁড়ায়, ভবিষ্যতের কিশোর-কিশোরীরা বইয়ের নাম করে চটি সাহিত্যের দাসে পরিণত হবে।
প্রতিবাদ করুন — “সাহিত্য মানে নৈতিকতা। সাহিত্য মানে চরিত্র গঠন। বিকৃতি নয়, বরং পবিত্র চিন্তার জয় হোক।” “Fifty Shades of Grey” কোনো সাহিত্য নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ছদ্মবেশ।
এটি ভালোবাসার নামে বিকৃত যৌনতা, স্বাধীনতার নামে দাসত্ব, আর সাহিত্যরূপে অশ্লীলতা ও চারিত্রিক ধ্বংসকে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আমাদের সমাজে যখন পরিবার, লজ্জা, হায়া, সম্পর্কের পবিত্রতা—সবকিছুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে, তখন এই ধরণের বইকে অনুবাদ করে ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেওয়া মানে হলো তাদের আত্মিক মৃত্যুতে সহায়তা করা।
আমাদের স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে:
1. এই বই ও এই জনরা (genre)–এর সব অনুবাদ ও বিক্রয়কারীদের বয়কট করতে হবে। কারণ তারা বইয়ের নামে আমাদের সন্তানদের হাতে বিষ তুলে দিচ্ছে।
2. এই বইয়ের অনুবাদক, প্রকাশক এবং যেসব বড় বড় অনলাইন শপ এ বই বিক্রি করছে—তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। দণ্ডবিধি ২৯২ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, এটি অপরাধ।
3. জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে—যাতে তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারে, কীভাবে এই ধরণের “সাহিত্য” তাদের মন-মানসিকতা নষ্ট করে।
এই প্রতিবেদন শুধু একটি লেখনি নয়—এটি একটি আহ্বান। আমরা চাই, যারা বিশ্বাস করে যে চরিত্রই জাতির ভিত্তি, তারা একত্রিত হোক এই নোংরা সাহিত্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। সময় এসেছে, “পাঠক সমাজ” থেকে “প্রতিরোধ সমাজ”-এ পরিণত হওয়ার। সাহিত্য হোক আত্মশুদ্ধির উপায়, বিকৃতির বাহন নয়।