TBN Desk | ৬ ই জুলাই ২০২৫ | ঢাকা
“আমি যারা বাইরে গুলি চালাচ্ছে, তাদের জন্য জাহান্নামের সুসংবাদ দিচ্ছি।” এই ঘোষণা এসেছিল এক মসজিদের মিম্বর থেকে, যেখানে তখনও জুমার খুতবা চলছিল। বাইরে তখন গুলির শব্দে কাঁপছিল আকাশ-বাতাস।
সেই জুমার দিনে, ১৯ জুলাই, রাজধানীর এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে পুলিশ যখন নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল, তখন এগিয়ে এসেছিল এক তরুণ। নাম তার রাতুল — নওয়াব হাবিবুল্লাহ সরকারি কলেজের ছাত্র।
সে চেয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য হলেও সংঘর্ষ থামাতে, মুখে ছিল শান্তির বার্তা ও হৃদয়ে মানবতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পুলিশ সরাসরি তার কোমরে বন্দুক ঠেকিয়ে সামনে থেকেই গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির পর রাতুলের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়, যা সে নিজ হাতে চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এই ছাত্রকে ঘিরে মানুষের শোক এবং ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আর সেই সময়ই মসজিদের মিম্বর থেকে উচ্চারিত হয় সাহসী কণ্ঠস্বর — ইমাম সাহেব বলেন,
“যারা এই মুহূর্তে বাইরে গুলি চালাচ্ছে, আমি তাদের জন্য জাহান্নামের সুসংবাদ দিচ্ছি।”
এই ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে, হয়ে ওঠে প্রতিরোধের প্রতীক।আজকের দিনে আমরা সেই সাহসী ইমামদের ভুলতে পারি না — যারা চাকরি হারিয়েছেন, নিগৃহীত হয়েছেন, তবুও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।আজ রাতুল নেই — কিন্তু তার রক্ত আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে। সে মিম্বর ছিল ইসলামের পক্ষে, জালিমদের বিরুদ্ধে। আর সে তরুণ ছিল নিপীড়িতের কণ্ঠস্বর।
আমরা জোর দাবি জানাই — যেই পুলিশ অফিসার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
(ঘাতক পুলিশের ছবি বামে সংযুক্ত করা হয়েছে। কেউ সঠিক পরিচয় জানলে কমেন্টে জানানোর অনুরোধ রইল।)