ঢাকার মাতুয়াইলে কলেজ থেকে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করার ঘটনার ৯ বছর পর অবশেষে শেষ হলো বিচারিক প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
২০১৬ সালের ১৫ মার্চ। হাজী আ. লতিফ ভূইয়া কলেজে প্রবেশ করার সময় এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয় সহপাঠী শামীম হোসেন। তার সঙ্গে ছিল দুই সহযোগী — নাজমুল ও জিলকদ। প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম এই অপহরণ ও ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। এরপর মাতুয়াইলে নিয়ে গিয়ে তারা দলবেঁধে ধর্ষণ করে ওই শিক্ষার্থীকে।
এই বর্বর ঘটনার দুই দিন পর, ২০১৬ সালের ১৭ মার্চ, ভুক্তভোগীর মা যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। একই বছর পুলিশ তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
কিন্তু এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ৯টি বছর। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ, শুনানি ও নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৫ মে অবশেষে ঘোষণা করা হলো রায়।
বিচারক গোলাম কবির তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হবে।
রায় ঘোষণার সময় তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই মামলার মাধ্যমে আবারও উঠে এসেছে একটি কঠিন বাস্তবতা— ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অপরাধের বিচার পেতেও দেশে লেগে যায় প্রায় এক দশক।
আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে, এমন স্পর্শকাতর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।