সম্প্রতি আমরা একাধিক সংবাদে দেখেছি—ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী চক্র কৌশলে মুসলিম তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে, পরে তাদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেকে গর্ভবতী হচ্ছেন, এরপর তাদের একা ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে সেই হিন্দু তরুণরা। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ’—যেটি ভারতের উগ্র সংগঠনগুলোর একটি সুপরিকল্পিত প্রজেক্ট।
এই ভয়ংকর ট্র্যাপ যে কেবল বাস্তবেই ঘটছে তা নয়, বরং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমেও তা সমাজে ‘নরমালাইজ’ করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে নাটক-সিনেমার মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম প্রেমের মিথ্যে রোমান্টিক গল্প তৈরি করে তরুণ-তরুণীদের মগজ ধোলাই করা হচ্ছে।তারই একটি উদাহরণ—সম্প্রতি প্রথম আলোর ছত্রছায়ায় নির্মিত এক নাটক, যেটি আগেই বিতর্কিত হয়ে ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, আবারও প্রকাশ পেয়েছে। নাটকটির নাম লক্ষণীয়: “নাবিরা সকল বিন্দু জল আর সুমলিন সেরা প্রেম প্রতাটি সন্তো ওয়াইদানিং”—একটি অদ্ভুত ও বিভ্রান্তিকর নাম, যেটিতে বোঝার উপায় নেই আসলে এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি কী।
তবে নাটকটির কনটেন্ট স্পষ্টতই ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ। যেখানে এক হিন্দু ছেলে এবং এক মুসলিম মেয়ের প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়—গভীর আবেগে মোড়ানো, বিশ্বাসের গল্প, অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বাস্তবে যেখানে মুসলিম মেয়েরা দিনের পর দিন এই প্রেমের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, সেখানে এই নাটক সেই পদ্ধতিকে ‘ভালোবাসা’ রূপে সাজিয়ে উপস্থাপন করছে।
এটি শুধু সংস্কৃতির বিপর্যয় নয়, বরং একটি বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ এই নাটকগুলো তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করে, মেধাকে ধ্বংস করে, ঈমানকে দুর্বল করে।আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো—নাটকটি আবার ইউটিউবে পুনরায় আপলোড করা হয়েছে, যদিও প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে পরে সেটিকে আবার ‘প্রাইভেট’ করে দেওয়া হয়েছে।
এটি প্রমাণ করে, তারা বারবার চেষ্টা করছে—জনগণ না বুঝে দেখে ফেলুক, মস্তিষ্কে ঢুকে যাক সেই বার্তা।এই ধরনের নাটক ও কনটেন্টকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিকভাবে কঠোর জবাবদিহি দরকার। সাংস্কৃতিক জিহাদ এর যুগে আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে শুধু সীমান্তে নয়—ঘরের ভিতরেই হেরে যাবো ।
সূত্র- TBN desk