নিজস্ব প্রতিবেদন | ২৩ জুন ২০২৫
নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার অধীনে এক ১৭ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ ও পরে দেহব্যবসায়ী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এক লোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও সচেতন মুসলিম সমাজের দাবি, এটি ভারতের হিন্দুত্ববাদী ‘ভাগওয়া লাভ ট্রাপ‘ চক্রের একটি সুপরিকল্পিত এবং ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। অভিযোগের মূল হোতা ইসকনের সদস্য অভিজিৎ মন্ডল, যিনি মুসলিম পরিচয় গোপন করে এই জঘন্য অপরাধ করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী নোয়াখালী সদরের একটি ফাজিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার স্বজনেরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মজবুখালী গ্রামের এক তরুণ অভিজিৎ মন্ডলের (২০) সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় হয়। এই পরিচয় এক মিথ্যা প্রেমের নাটকে গড়ায়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম কিশোরীদের প্রতারিত করে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নষ্ট করে ধর্মান্তরিত এবং জীবন ধ্বংস করা।
সেই সূত্র ধরে, বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গত ৬ মে সকালে নোয়াখালীর মাইজদী থেকে মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে যায় এই কথিত প্রেমিক। এ সময় মেয়েটি তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ দেড় লাখ টাকা নিয়েছিল, যা এই চক্রের লোভ ও পূর্বপরিকল্পনার সুস্পষ্ট প্রমাণ। তারা যাত্রাবাড়ীর একটি আবাসিক হোটেলে ওঠে।
মেয়েটি জানিয়েছে, ঢাকা যাওয়ার পর পানি চাইলে তার কথিত প্রেমিক চেতনানাশক মেশানো পানি দেয় এবং সে পান করে জ্ঞান হারায়। এই সুযোগে অভিজিৎ তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। চেতনা ফিরে মেয়েটি দেখতে পায়, তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। মোবাইল ফোন ফেরত চাইলে তার ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু হতো। তার কথিত প্রেমিক বন্ধুদের নিয়ে দিনে ৭-৮ বার ধর্ষণ করেছে, যা এই চক্রের অমানবিকতা ও পাশবিকতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।
এভাবে ২১ দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চলার পর অভিজিৎ মন্ডল মেয়েটিকে একটি দেহব্যবসায়ী চক্রের কাছে বিক্রি করে পালিয়ে যায়, যা এই হিন্দুত্ববাদী চক্রের মানবপাচারের ভয়াবহ নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়।
যে চক্রের কাছে মেয়েটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়, সেখানে আরেক তরুণীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় মেয়েটি। তার মা এবং বোন জানান, ‘প্রোটেক্ট আওয়ার সিস্টারস বিডি’ নামক একটি মুসলিম সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় গত ১৫ জুন বিকেলে ঢাকার জুরাইন থেকে মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। তিনি তার মেয়ের ওপর নির্যাতনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনো মুসলিম মেয়ে এই ‘ভাগওয়া লাভ ট্রাপ‘ চক্রের শিকার না হয়।
করুণ পরিণতির শিকার ওই কিশোরী এখন নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। গত রোববার (২২ জুন) দুপুরে মেয়েটির মা সুধারাম মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। এতে দু’জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
সুধারাম থানার ওসি কামরুল ইসলামের ভাষ্য, ভুক্তভোগী কিশোরী মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরিও করত। সাতক্ষীরার ওই ছেলের সঙ্গে টেলিগ্রামে প্রেমের সম্পর্ক হয়। মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ ও দেহব্যবসায়ী চক্রের কাছে বিক্রির অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্তের পর সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা সচেতন নাগরিক মহল ও সমগ্র মুসলিম সমাজে গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় হেফাজত ইসলামের নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত অভিজিৎ মন্ডলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। তারা বলছেন, অভিজিৎ মিথ্যা পরিচয় ও মিথ্যা প্রেমের জালে ফেলে এই জঘন্য অপরাধ করেছে, যা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।
এই হিন্দুত্ববাদী ‘ভাগওয়া লাভ ট্রাপ’ চক্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম মহল থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে এমন মানবতাবিরোধী অপরাধ আর সংঘটিত না হয় এবং মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।