সবাইকে শত্রু মনে করা থেকে বিরত থাকুন
৫ আগস্ট ২০২৫ | ✍️ বিশেষ প্রতিবেদন
ইসলামি আন্দোলন, ইন্তিফাদা বা জুলাই বিপ্লবের মতো বৃহৎ কোন সংগ্রামে শত্রু–মিত্র চেনা যেমন জরুরি, তেমনি অন্ধ সন্দেহ ও বিভ্রান্তিও একে দুর্বল করে দিতে পারে। সম্প্রতি এক প্রোগ্রামে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে যা আমাদের আরও পরিণত, বিবেচনাশীল ও দাওয়াতী মেজাজের হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
শামিম হাসান —একজন বলিষ্ঠ, আত্মমর্যাদাশীল, স্পষ্টভাষী মানুষ। হাসিনার আমলে তাঁকে “জামায়াতপন্থী” ট্যাগ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি ছিলেন জুলাই বিপ্লবের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থক এবং গোপালগঞ্জে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পরিষদ) কর্মসূচি প্রটেক্ট করতে গিয়ে নিজেই মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হন।
এরপরও পরিচিত এক লোকের আমন্ত্রণে তিনি অংশ নেন সাম্প্রতিক ‘ইন্তিফাদা’ প্রোগ্রামে। কিন্তু সেখানে উপস্থিত কিছু ভাই তাকে ‘জাসুস’ বা সন্দেহভাজন চর মনে করে দূরত্ব তৈরি করেন। কেউ কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে কটাক্ষও করেন, যার ফলে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও অপমানবোধে মাস্ক পরে প্রোগ্রাম থেকে নিজেকে আড়াল করেন।
শারীরিক বৈশিষ্ট্য, রূপ-রূপান্তর কিংবা ব্যক্তিত্ব দিয়ে বিচার করাটা ইসলামী নীতির পরিপন্থী। একজন মানুষ ভেতরে কী ধারণ করছে—তা জানার একমাত্র মাধ্যম হলো সময়, হৃদয়, ও সাহচর্য।
শামিম হাসান অনেকের চোখে হয়তো কঠোর, অ্যারোগ্যান্ট কিংবা রহস্যময় বলে মনে হতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে—এমন অনেক বলিষ্ঠ মানুষ ইতিহাসে ইসলামের জন্য রাজত্বও করেছেন, জীবনও দিয়েছেন। কেউ যদি এই শক্তিকে ঈমানের পথে নিয়ে আসে, তাহলে তিনি হতে পারেন উমর (রা.)-এর উত্তরসূরী।
সকল কে অনুরোধ—দায়িত্বজ্ঞানহীন সন্দেহ, অপমান বা ঠাট্টা করে কোনো মুমিন ভাইকে দূরে সরিয়ে দেবেন না। কে জানে, যাকে আপনি সন্দেহ করছেন, তিনিই হয়তো আগামীকাল এই সংগ্রামের অন্যতম নেতৃত্ব হয়ে উঠবেন।
🤲 আল্লাহ আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করুন, ঈমানদারদের জন্য ভালো ধারণা রাখার তাওফিক দিন, এবং সন্দেহের বদলে দাওয়াত ও দয়ার ভাষা শিখিয়ে দিন।
আমিন।