সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তথাকথিত সেক্যুলার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার আওতায় দেশে বিগত কয়েক বছরে সংঘটিত হয়েছে ৩৫০০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড ও ৪১০০টিরও বেশি ধর্ষণের ঘটনা। সমালোচকরা বলছেন, এ পরিস্থিতি গণতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের নামে চলে আসা সহিংসতা ও দুর্নীতির গভীর সংকটকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করছে।
বিভিন্ন পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনীতি একটি ব্যয়বহুল পেশা। রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের পূর্ণকালীন সময় দিতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ নেতারই নেই স্থায়ী আয় বা রিকারেন্ট ইনকামের কোনো উৎস। ফলস্বরূপ, রাজনীতির অর্থায়নের জন্য তারা নির্ভর করেন তথাকথিত চাঁদাবাজির ওপর।
চাঁদাবাজির প্রকৃতি ও বাস্তবতা
বিশ্লেষকরা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চাঁদাবাজি একটি কাঠামোগত অনিবার্যতা। এ চাঁদাবাজি দুই ধরণের হয় —
১. সুবিধা ভিত্তিক চাঁদা: বড় ব্যবসায়ীরা নীতিগত সুবিধার বিনিময়ে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের অর্থ জোগান দেয়।
২. হুমকিভিত্তিক চাঁদা: ছোট ব্যবসায়ীরা জোর-জুলুমের মুখে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়।
উন্নত বিশ্বের কথিত ফাংশনাল গণতন্ত্রগুলোতে প্রথম ধরণের চাঁদাবাজিই প্রচলিত। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেট লবিং একটি বৈধ সাংবিধানিক অধিকার। অর্থবানরা তাদের টাকার জোরে আইন ও নীতিতে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। অপরদিকে, দরিদ্রদের একমাত্র শক্তি তাদের ভোট, তাও কেবল নির্বাচনী মৌসুমে।
জনগণের ন্যায্যতা বনাম কর্পোরেট রাজনীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা গণতন্ত্র চায় অথচ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দাবি করে, তারা হয় বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে, নয়তো তারা নিজেরাই সেই শক্তির অভাবে দুর্নীতিমুক্ত থাকার দাবি করছে। কারণ, চাঁদাবাজি বাদ দিয়ে গণতন্ত্র বাস্তবায়ন এখনকার বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায় অসম্ভব।
এক ঐতিহাসিক তুলনা
রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চ ও রাজারা যেভাবে সাধারণ মানুষকে শোষণ করত, আজকের গণতান্ত্রিক ইউরোপেও ঠিক তেমনি কর্পোরেট সংস্থা ও রাজনৈতিক দল মিলেই জনগণকে শোষণ করে। নাম পাল্টেছে, শোষণ রয়ে গেছে।”
দেশের একাংশ নাগরিক মনে করেন, এখন সময় এসেছে সেক্যুলারিজম ও প্রচলিত গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবার। তারা দাবি করছেন একটি বিকল্প রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেলের, যেখানে রাজনীতি হবে আদর্শভিত্তিক, এবং শাসনব্যবস্থা হবে জনগণের প্রকৃত কল্যাণকেন্দ্রিক।