অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত গুম সংক্রান্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিতরে লুকিয়ে থাকা এক গভীর, পদ্ধতিগত সমস্যার চিত্র। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো ব্যক্তিগত অসদাচরণের চেয়ে বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির ফল, যেখানে অপরাধকে নীরবে প্রশ্রয় দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
কমিশনের কাছে এখন পর্যন্ত গুম সংক্রান্ত প্রায় ১,৮০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের পেছনে থাকা ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রেকর্ডকৃত সাতটি নথি, যেখানে প্রমাণ পাওয়া গেছে—একাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর ইউনিট মিলে এসব অপরাধ সংঘটিত করেছে। এসব ঘটনা ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি ছিল একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। অথচ নথিগুলোর কোথাও “গুম” শব্দটি নেই। সেখানে বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, আত্মীয়-স্বজনের দলীয় পরিচয়, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। এসব গুরুতর অপরাধ থাকার পরেও যেসব তথ্য গুমের দিকে ইঙ্গিত করত, সেগুলোকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
কমিশন মনে করে, বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরে এমন ধরনের অপরাধ নিয়ে নীরবতা বজায় রাখাটা ছিল বড় ধরনের একটি নীতিগত ব্যর্থতা। এটিকে তারা একটি বৃহত্তর “অপারেশনাল ম্যান্ডেট”-এর অংশ বলে অভিহিত করেছে, যেখানে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ আর ‘জনশৃঙ্খলা রক্ষা’-র অজুহাতে এ ধরনের অপরাধকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনের একটি অংশে তুলে ধরা হয়েছে এক কর্মকর্তার জবানবন্দি, যেখানে তিনি জানান—তিনি র্যাবে প্রেষণে থাকাকালীন দু’জনকে নিজ হাতে হত্যা করেন এবং চারজনের হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন। এ সময়ের জন্য যে ‘অপারেশন বাবদ’ টাকা পান, তা তিনি নিজের গ্রামের মসজিদে দান করেন। এই ঘটনায় তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করলেও, পরে তাকে আর জিজ্ঞাসাবাদ বা আইনি জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়নি। বরং তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ওই কর্মকর্তাকে একজন দক্ষ, সৎ ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে প্রশংসা করে সুপারিশপত্র দেন।
আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, এক অপরাধে জড়ানো জুনিয়র অফিসার হঠাৎ ধর্মভীরু হয়ে ওঠেন এবং নামাজ-রোজা শুরু করেন। তখন সিনিয়র তাকে স্মরণ করিয়ে দেন—নামাজ পড়া আল্লাহর