বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ও বিমান বাহিনী: অব্যবস্থাপনা, ষড়যন্ত্র না উদ্দেশ্যমূলক দুর্বলতা?
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—এই দেশের আকাশ নিরাপত্তা কতটা উপেক্ষিত। একটি নব্বই দশকের পুরাতন বিমান, যেটি কার্যত অচল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয়যোগ্যতা হারিয়েছে, সেটাই ২০১৩ সালে চীন থেকে কেনা হয় বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর জন্য। এটিই ছিল ওই বিমানের সর্বশেষ বিক্রি—আর আমরা হয়েছি সেই ‘শেষ ক্রেতা’।
প্রশ্ন উঠছে—কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে একটি রাষ্ট্র, যে এমন বিমানের পেছনে কোটি কোটি টাকা ঢালে?
এই দুর্ঘটনা যদি নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি হয়—তাও ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু যদি এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা হয়, যার মাধ্যমে নতুন কোনো ইস্যু তৈরি করে জাতীয় দৃষ্টিকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়—তাহলে এর ভয়াবহতা আরও গভীর।
একটি কথা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট—ভারত বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর ভিতরে গভীর প্রভাব বলয় তৈরি করে রেখেছে। এর ফলেই এখনো বাংলাদেশ চতুর্থ প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার বা আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহে ব্যর্থ। এই ব্যর্থতা নিছক প্রযুক্তিগত বা আর্থিক নয়, এর পেছনে কাজ করছে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দুরভিসন্ধি।
“প্রশ্ন করুন—কেন বাংলাদেশকে বিমান প্রতিরক্ষায় পঙ্গু করে রাখা হয়েছে? কারা সেই দোসর যারা আজো ভারতীয় আধিপত্য কায়েম রাখতে এই বাহিনীকে দুর্বল করে রেখেছে?”
জাতি যদি এই প্রশ্ন না তোলে, তাহলে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর আমরা শুধুই লাশ গুনে যাব। কিন্তু প্রতিকার হবে না।
যদিও রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে, তথাপি ভারতের স্বার্থ রক্ষাকারী দালালচক্র এখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দৃঢ়ভাবে আসীন। ফলত, এখনো কোনো কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা হয়নি। এখনো কোনো উন্নত স্টিলথ ফাইটার কেনা হয়নি।
অথচ, যদি শত্রুপক্ষ হঠাৎ ঢাকার আকাশে মিসাইল নিক্ষেপ করে—আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোথায়? কোথায় সেই রাডার নেটওয়ার্ক, সেই আন্তঃবাহিনী সমন্বয়, সেই উন্নত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা?
স্মার্ট শহুরে সেলিব্রিটি ইউনুসের মতো লোকেরা আজ দেশের নিরাপত্তা নয়, বরং বিদেশি স্বার্থের বার্তা বহন করছে। অথচ দেশের সাধারণ জনগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্ররা এই গুরুতর বিষয়ে নিরুত্তর। জাতি যেন এক চরম ঘুমে বিভোর।
“জাতির প্রশ্ন করা উচিত—দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কেনো ঢেলে সাজানো হচ্ছে না?”
আজ জাতি যদি এই প্রশ্ন না তোলে, তাহলে পরবর্তী হামলার সময় আমরা শুধু জানতে পারবো, ঢাকার বুকে কতটি মরদেহ পড়ে আছে—কিন্তু আমাদের প্রশ্ন তখনো অনুপস্থিত থাকবে।
বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে আজ আর আবেগ নয়, চাই পরিকল্পিত রূপান্তর। চাই রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও আন্তর্জাতিক চাপকে প্রতিহত করে আত্মনির্ভরশীল আকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। অন্যথায়, প্রতিবারই নতুন ট্র্যাজেডি আমাদের ঘুম ভাঙাবে—তবে সেই ঘুম হবে একবারেই চিরঘুম।