বর্তমান বিশ্বে এক আলোচিত ঘটনা হলো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ।
অনেক সাধারণ মুসলমান আজ এই যুদ্ধকে দেখে আবেগে বলে ফেলছেন, “ইরান তো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়ছে, নিশ্চয়ই ওরা আমাদের পক্ষে!” কিন্তু বাস্তবতা কি এতটাই সত্য? ইসলাম, আকিদা, ইতিহাস ও ভোরের আলোয় বিচার করলে দেখা যায় যে ইরানকে মুসলমান ভাবা এবং তাদের পক্ষ নেওয়া একটি ভয়ঙ্কর ভুল।
অনেক মুসলমান জানেন না, ইরানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম হলো ‘ইমামিয়া শিয়া’।
এই মতবাদ শুধু ইসলাম থেকে আলাদা নয় বরং ইসলামের মূল স্তম্ভ — তাওহীদ, রিসালাত, সাহাবা ও কুরআনের স্পষ্ট বিরোধিতা করে।
১. সাহাবা বিদ্বেষ:
শিয়ারা বলে, রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর পর অধিকাংশ সাহাবা ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গেছেন (নাউজুবিল্লাহ)।
তারা আবু বকর, উমর, উসমান, আয়েশা (রা.) দের অভিশাপ দেয়।
(সূত্র: আল-কাফি, শিয়া প্রধান হাদীস গ্রন্থ)
২. কুরআন বিকৃতির বিশ্বাস:
শিয়া বিশ্বাস করে, এখন যে কুরআন আছে তা পূর্ণ নয়। আসল কুরআন ইমাম মাহদীর হাতে প্রকাশ পাবে।
(সূত্র: ফসলুল খিতাব, মোল্লা নুরি তাবরসী)
৩. আলী (রা.) কে খোদার গুণাবলী দেওয়া:
শিয়ারা আলী (রা.) কে এমন মর্যাদা দেয়, যা নবী বা ফেরেশতাদের চেয়ে বেশি।
কেউ কেউ আলীকে গায়েবের খবর জানেন বলেও বিশ্বাস করে।
৪. তাকিয়া বা মিথ্যার অনুমোদন:
শিয়া ধর্মে ‘তাকিয়া’ নামে একটি ধারণা আছে — নিজেদের সত্য বিশ্বাস গোপন রেখে ভান করা,
যা সুন্নি মুসলমানদের প্রতারণার শিকার করে।
এইসব বিশ্বাস কোরআন ও হাদীসের স্পষ্ট বিরোধী। এজন্য ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনে কাসির, আলবানী, বিন বাযসহ বহু আলেম শিয়াদের ‘ইসলামের বাইরের কুফরি দল’ বলেছেন।
ইরান ফিলিস্তিনের প্রতি কথায় সমর্থন জানালেও বাস্তবে তারা সুন্নি মুসলমানদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়েছে।
ইরান ও হিজবুল্লাহ মিলে ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের (একজন আলাওয়ি শিয়া) পক্ষ নিয়ে লক্ষাধিক সুন্নি মুসলমানকে হত্যা করেছে।
তাদের মসজিদ, মাদরাসা ধ্বংস, আলেমদের নির্যাতন করেছে।
২০০৩ সাল থেকে ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা আমেরিকার সহায়তায় ইরাক দখল করে নেয় এবং সেখানে লক্ষাধিক সুন্নি মুসলমানকে হত্যা করে।
ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনে সুন্নি পরিবার ও শিশুদের ওপর বোমাবর্ষণ করেছে এবং ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে।
অর্থাৎ, যে ইরান নিজ হাতে লক্ষ লক্ষ মুসলমান হত্যা করেছে, তাকে ফিলিস্তিনের পক্ষে মুসলমান ভাবা চরম ভ্রান্তি।
এই যুদ্ধ ইসলামের জন্য না, ফিলিস্তিনের জন্যও না।
২০১৫ সালে ওবামা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে JCPOA চুক্তি করে।
২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই চুক্তি বাতিল করলে, ইরান আবার পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করে।
ইসরায়েল এই বোমাকে হুমকি মনে করে এবং ইরানের স্থাপনায় হামলা শুরু করে।
জবাবে ইরান প্রক্সি বাহিনী দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে।
অর্থাৎ, এ যুদ্ধ মুসলমানদের যুদ্ধ নয়! এটা দুই শত্রু শক্তির আধিপত্য রক্ষার সংঘর্ষ।
১. আবেগ নয়, আকিদা দিয়ে বিচার করুন।
কেউ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বললেই মুসলিম হয় না।
ইসলাম দেখে কার আকিদা ও আমল কেমন।
২. উভয় শত্রুর বিরুদ্ধে মনোভাব রাখুন।
ইরান ও ইসরায়েল দুজনেই মুসলমানদের শত্রু।
একজনের পক্ষ নেওয়া মানে মুসলমানদের বিপক্ষে যাওয়া।
কারণ, দুই শত্রুই বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।
আবারো বলছি, ইরান ফিলিস্তিনের বন্ধু না, মুসলমানদের ভাই না।
তারা একটি বিকৃত আকিদা নিয়ে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে এবং নিজেদের স্বার্থে মুসলমানদের রক্ত ব্যবহার করছে।
অপরদিকে ইসরায়েল মুসলিম জাতির ঘোষিত শত্রু, যারা ফিলিস্তিনিদের হত্যা, ভূমি দখল ও জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে।
তাই মুসলমানদের জন্য এই দ্বন্দ্বে একপক্ষ অবলম্বন করা উচিত নয়।
কারণ দুই পক্ষই ইসলামের শত্রু, উম্মাহর বিভক্তির কারণ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী।
আল্লাহ যেন উম্মাহকে হেদায়াত, একতা ও ফিতনার যুগে সত্য বোঝার তাওফিক দেন।
তিনি যেন মুসলমানদের শত্রুদের ধ্বংস করেন, হককে বিজয়ী করেন এবং উম্মাহকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহুম্মা আমীন।
Muhammad Nechar
18th June 2025
ধন্যবাদ ভাই