মাদ্রাসার ব্যাকগ্রাউন্ডের এই সমাজসেবী করোনাকাল থেকে অনলাইনে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং এবং অসহায় নারীদের পুনর্বাসনে নিবেদিত
বাংলাদেশে সমাজসেবার নামে অনেকেই ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন, কিন্তু প্রকৃত মানবদরদি যারা নীরবে মানবতার সেবায় নিবেদিত, তাদের পরিচয় প্রায়শই ঢাকা পড়ে যায় আলোচনার বাইরে। এমনই এক ব্যতিক্রমী চরিত্র মাদ্রাসা-শিক্ষিত তরুণ আলেম, ইমাম, লেখক ও সমাজকর্মী সুলতান নাঈম বিন মুসলিম। ইসলামী সংগীত রচয়িতা, কবি এবং ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, সমাজের দুটি প্রান্তে—আত্মহত্যাপ্রবণদের মানসিক পুনরুদ্ধার এবং নির্যাতিত নারীদের বিবাহের ব্যবস্থা—তার অবদান তাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছে।
করোনা মহামারির সময় থেকে সুলতান নাঈম অনলাইনে আত্মহত্যাপ্রবণ ও হতাশাগ্রস্ত মানুষদের কাউন্সেলিংয়ে এগিয়ে আসেন। কুরআন-হাদিসের আলোকে তিনি তাদের জীবনের অর্থ ফিরিয়ে দিতে কাজ করেন। তার মতে, “জীবনের প্রতি অনাগ্রহ আসে যখন মানুষ আল্লাহর সাথে সংযোগ হারায়। আমি চেষ্টা করি তাদের আত্মাকে স্পর্শ করতে, দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনতে।”
সমাজে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, বন্ধ্যা, ধর্ষিতা কিংবা ‘অপাংক্তেয়’ নারীদের পুনর্বাসনে সুলতান নাঈমের ভূমিকা অনন্য। তিনি শুধু বিয়ের ব্যবস্থাই করেন না, বরং সমাজের কটূক্তির মুখে দাঁড়িয়ে তাদের মানবিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেন। “একজন ধর্ষিতা বা পতিতালয় থেকে ফেরা নারীও আমার কাছে মায়ের মতো সম্মান পায়। তাদের বিয়ে শুধু সংসার নয়, সমাজের চোখে পুনরায় মানুষ হওয়ার সুযোগ,” বলেন তিনি।
মাদ্রাসার পটভূমির কারণে মিডিয়ার উপেক্ষা নাঈমের কাজের গতিকে থামাতে পারেনি। তিনি বলেন, “মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ আমার লক্ষ্য নয়। আমার সওয়াব আল্লাহর কাছেই জমা হচ্ছে।” তার লেখা ইসলামী গান ও বই সমাজের নানাস্তরে পৌঁছালেও, মূল পরিচয় এখন সমাজসেবায়।
সুলতান নাঈমের কাজ শুধু প্রশংসার নয়—অনুকরণের। তার মডেলে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের প্রত্যেক মাদ্রাসা ও ধর্মীয় নেতা যদি সমাজের অবহেলিতদের পাশে দাঁড়ান, তবে বাংলাদেশে মানবসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সুলতান নাঈমের গল্প শুধু একজন ব্যক্তির নয়—এটি সমাজের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নীরব নায়কদের প্রতিচ্ছবি। যেখানে মিডিয়া নেতিবাচকতার পথে হাঁটে, সেখানে এমন মানুষরাই তৈরি করেন আশার আলো। তার কাজের ধারাবাহিকতা কামনা করে আমরা প্রত্যাশা করি, সমাজের প্রতিটি সুস্থ ধারার মানুষ এগিয়ে আসবেন মানবতার সেবায়।