সমাজে অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে আইন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। সম্প্রতি মেহেরপুরের এক যুবকের বিরুদ্ধে কথিত বাল্যবিবাহের অভিযোগ এনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৭ দিনের জেল দিয়েছে। অভিযোগ, কনের বয়স আইনি প্রাপ্তবয়স্কতার নিচে হওয়ায় এ শাস্তি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনাটি ছিল মূলত পারিবারিক সম্মতিতে ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন একটি বিবাহ। তবুও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে বিবাহ থামিয়ে শাস্তি প্রদান করেছে। অন্যদিকে, প্রকাশ্যে আঠারো বছরের কথিত “শিশুরা” বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলেও, প্রশাসন সেখানে প্রায়ই মৌন সম্মতি দেয় ফলে তা সামাজিকভাবে এক ধরনের উৎসাহের জন্ম দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং তা পরিবার ও সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এ ধরনের আচরণ তরুণদের মধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বাড়ায় এবং সামাজিক বন্ধন দুর্বল করে। অথচ প্রশাসনের চোখে এগুলো প্রায়ই গুরুত্ব পায় না।
অভিযোগ রয়েছে, ভালো উদ্দেশ্যে—যেমন পরিবারের সম্মান রক্ষা বা দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য—কৃত বিবাহের ক্ষেত্রেও বাল্যবিবাহ আইনের প্রয়োগে বাড়াবাড়ি করা হয়। কিন্তু সমাজে প্রকাশ্যে চলা অনৈতিক কার্যক্রমে আইন প্রয়োগের তেমন নজির দেখা যায় না।
মহলের দাবি, আইন প্রয়োগে এই দ্বিচারিতা বন্ধ করে, বিবাহ ও পরিবার রক্ষাকারী মূল্যবোধকে সমর্থন দিতে হবে। একইসঙ্গে, নৈতিকতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।