আরাকান রাজ্যের মংডু টাউনশিপে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, বাজারগুলোতে রোহিঙ্গাদের কাছে খাবার বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ফলে অসংখ্য পরিবার এখন ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তাও হারিয়েছে। শিশুদের জন্য দুধ কিংবা বৃদ্ধদের জন্য ওষুধ—সবকিছুই এখন দুষ্প্রাপ্য।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নগদ লেনদেনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি ১০০ ও ২০০ কিয়াতের মতো ছোট নোট ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতে করে সাধারণ রোহিঙ্গারা হাতে মুদ্রা থাকলেও তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারছে না।
এ অবস্থার মধ্যে সম্প্রতি মংডুর কিয়াউত হ্লাইগার গ্রামে রোহিঙ্গা মালিকানাধীন একটি মুদি দোকানে সশস্ত্র ডাকাতি চালিয়েছে চারজন আরাকান আর্মি (AA) সদস্য। জানা গেছে, তারা চাউং ওয়া চৌকির আওতাধীন মিঙ্গালারগি গ্রামের বাসিন্দা। ডাকাতির সময় তারা দোকান থেকে প্রায় ৩০,০০০ কিয়াত মূল্যের নিত্যপণ্য, যেমন ডিম ইত্যাদি লুট করে নিয়ে যায়। দোকানিকে বলা হয়, “আগামীকাল টাকা দিয়ে যাবো”, যদিও স্থানীয়দের মতে, এটি AA-এর পরিচিত প্রতারণামূলক কৌশল, যার মাধ্যমে তারা বারবার বিনা মূল্যে পণ্য আত্মসাৎ করে থাকে।
হামলাকারীরা শুধু দোকান লুট করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা রাস্তায় যাকে পেয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর আক্রমণ চালায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, হামলার সময় বারবার রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে বর্ণবাদী গালাগাল ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে “কালার” শব্দটি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, AA সদস্যরা দোকানের আশপাশে ঘুরে বেড়ানো মুরগির দিকে গুলতি ছুড়ে শিকার করে এবং পাঁচটি মুরগি নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, মংডু টাউনশিপে প্রায় এক বছর ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষদিক থেকে অঞ্চলটি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে AA জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং এ পর্যন্ত রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি দখলে নিয়েছে।
তবে এই দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী—যারা এখন দুই পক্ষেরই নির্যাতনের শিকার।
সূত্র: Arakan Info Network