ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছে, আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সেসব দেশ থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ১০% হারে শুল্ক বসানো হবে।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদসম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছে, পাল্টা শুল্ক আরোপ তার অর্থনৈতিক নীতির অংশ। নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, চীনের জন্য ৩৪% শুল্ক নির্ধারিত হয়েছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এবং ভারতের জন্য যথাক্রমে ২০%, ২৪% ও ২৬% হারে শুল্ক বসানো হয়েছে।
মার্কিন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির ওপর এখন ৪৯% শুল্ক আরোপ হবে, যা বাণিজ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৪ মিলিয়ন ডলার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানে রপ্তানি ৭৬.৯% কমে ১১.৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি ১৩.২% বেড়ে ২২.৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১১.১ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে পরিণত হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাতকে সুরক্ষা দেওয়া ও রাজস্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে এতে আফগানিস্তানের রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়তে পারে।
পুঁজিবাদী বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে এই শুল্ক নীতির বড় প্রভাব পড়তে পারে, কারণ দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল, খনিজ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির ওপর (কিছুটা হলেও) নির্ভর করে।
মার্কিন সরকার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দিলেও নতুন শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা আফগান ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন