মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক প্রতিরোধধর্মী আন্দোলন ‘আশ-শারা’ বর্তমানে তাদের কার্যক্রম ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়ছে। যদিও এই সংগঠন বারবার তাদের অবস্থান থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে এবং ইসরাইলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বা সমঝোতায় নেই—তবুও কিছু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মিডিয়া তাদের বিরুদ্ধে ‘গোপন বৈঠক’-এর অভিযোগ তুলে নতুন প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।
অভিযোগের উৎস ও সন্দেহজনক উৎস
সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোর্টাল দাবি করেছে, আশ-শারার প্রতিনিধিরা গোপনে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা বা মধ্যস্থতাকারী শক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছে। যদিও এসব প্রতিবেদনগুলোতে প্রমাণ হিসেবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র কিংবা স্বচ্ছ দলিল উপস্থাপন করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগের পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা থাকতে পারে। এর পেছনে রয়েছে আশ-শারার দিনবদলের আহ্বানে ভীত প্রতিপক্ষের চক্রান্ত—যারা চায় এই সংগঠনের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করতে।
আশ-শারার প্রতিক্রিয়া: “মিথ্যাচার ও মানহানিকর অপপ্রচার”
এক বিবৃতিতে আশ-শারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে:
“আমাদের কোনো প্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ইসরাইল কিংবা তাদের দোসর কোনো শক্তির সঙ্গে গোপনে বা প্রকাশ্যে কোনো বৈঠক করেনি। যারা এসব প্রচার করছে, তারা মূলত আমাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে দুর্বল করতে চায়।”
তারা আরও জানায়, ‘ইসলামী প্রতিরোধের নামে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের উদ্দেশ্য কেবল প্রতিরোধ জোরদার নয়, বরং বাস্তবতাকে বিকৃত করে একধরনের তথ্য-সন্ত্রাস কায়েম করা।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংকটে যখনই কোনো ইসলামী সংগঠন শৃঙ্খলিত অবস্থানে এগিয়ে যায়, তখনই তাদের সঙ্গে ‘সন্দেহজনক যোগাযোগ’ বা ‘গোপন সমঝোতা’-র গল্প তৈরি হয়। এর উদ্দেশ্য শুধু মানহানি নয়—বরং জনমানসে সংশয় সৃষ্টি করা, অর্থায়ন বন্ধে প্ররোচনা তৈরি করা এবং সংগঠনটিকে বিচ্ছিন্ন করা।
আশ-শারার বিরুদ্ধে ‘গোপন বৈঠক’ সংক্রান্ত প্রোপাগান্ডা সত্য নয় বলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটা স্পষ্ট হচ্ছে, এটি ইসলামি আদর্শে অটল একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক তথ্যযুদ্ধের অংশ।