বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানি ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রাজিল। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাথে মতবিনিময় শেষে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াজ পেরেজ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়, বিশেষ করে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে। তিনি দাবি করেন, ব্রাজিল থেকে গরুর মাংস আমদানি করা গেলে কেজি প্রতি মাত্র ১ ডলার (প্রায় ১২০–১২৫ টাকা) দামে পাওয়া সম্ভব হবে। তবে এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত হালাল সার্টিফিকেট প্রদান জরুরি।
তিনি আরও জানান, ব্রাজিল বাংলাদেশকে গরু ও দুধ উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও জুতা আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। আগামী অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-ব্রাজিল তৃতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ
তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, ইসলাম ধর্মে গরুর মাংসসহ যেকোনো প্রাণীর গোশত কেবল তখনই হালাল, যখন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে শরিয়ত অনুযায়ী জবাই করা হয়। অন্যথায় সেই মাংস মুসলমানদের জন্য হারাম।
এ কারণে অনেকে আশঙ্কা করছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা মাংসে যদি সঠিকভাবে হালাল বিধি অনুসরণ না করা হয়, তবে মুসলিমদের পবিত্র খাবারে হারাম মিশে যেতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য সহযোগিতা
মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত ফার্নান্দো আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো প্রতিশ্রুত অর্থ দিতে গড়িমসি করছে। তিনি আহ্বান জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় সাকজেএফ-এর নির্বাহী সভাপতি আসাদুজ্জামান সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক কেরামত উল্লাহ বিপ্লবসহ সংগঠনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সোর্স : বাংলা এডিশন