১৭ই এপ্রিল ২০২৫
খিলাফাহ পতনের পর শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও মুসলিম উম্মাহর ওপর বৈশ্বিক নিপীড়ন থামেনি। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০০ বছরে সারা বিশ্বে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৩ কোটি মুসলমান। যার গড় হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৮২১ জন মুসলমান প্রাণ হারিয়েছেন—এমনই এক মর্মন্তুদ তথ্য সামনে এনেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষণা রিপোর্ট।
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫ লিটার রক্ত থাকে। সেই হিসেবে এই ৩ কোটির বেশি মুসলমানের প্রাণহানিতে ঝরেছে ১৫ কোটি লিটার রক্ত—এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক। তুলনামূলকভাবে ভাবলে, এই পরিমাণ রক্ত দিয়ে অলিম্পিক মাপের প্রায় ৬০টি সুইমিং পুল পূর্ণ করা সম্ভব।
এই তথ্য শুধু পরিসংখ্যান নয়—এটি একটি নির্মম বাস্তবতা, যা মুসলিম বিশ্বে শতাব্দীজুড়ে চলা নির্যাতনের নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
প্যালেস্টাইন, বসনিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, সিরিয়া, ইয়েমেন, চেচনিয়া, রোহিঙ্গা, চীন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক কিংবা ভারত—প্রত্যেক জায়গায় মুসলমানদের এককভাবে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে সংঘাত, দমনপীড়ন ও গণহত্যা।
খিলাফতের পতনের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য যখন ভেঙে পড়ে, তখন থেকেই মুসলমানদের আর কোনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা প্রতিরক্ষার কাঠামো অবশিষ্ট থাকেনি। এই শূন্যতাকে ব্যবহার করে পশ্চিমা রাজনৈতিক আধিপত্য, উপনিবেশবাদ এবং ইসলামবিদ্বেষী শক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে মুসলমানদেরকে নিপীড়নের শিকার বানিয়েছে।
বিশেষত ২০০১ সালের পর থেকে ‘ওয়ার অন টেরর’ এর ছায়ায় বৈশ্বিকভাবে মুসলিম পরিচয়কেই ‘সন্দেহজনক’ রূপে চিত্রায়িত করা শুরু হয়। বহু রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হয় মুসলিম ভূখণ্ড, মুসলিম নেতৃত্ব ও ইসলামি আদর্শ। এতে করে সামরিক অভিযান, ড্রোন হামলা, রাজনৈতিক দমন, আইনি নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রাণ হারিয়েছেন।
এই পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা এমন এক প্রশ্ন সামনে এনে দাঁড় করায়, যা বিবেকবান মানবতার জন্য লজ্জার। বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো যখন মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, তখন মুসলমানদের উপর দীর্ঘমেয়াদি হত্যাযজ্ঞ নিয়ে নীরবতা তাদের দ্বিচারিতার প্রমাণ বহন করে।
খিলাফতের পতনের শতবর্ষে এসে আজ মুসলিম উম্মাহকে যে আত্মজিজ্ঞাসার সম্মুখীন করেছে তা হলো—এই রক্তপাত কখন থামবে? ইসলামী ঐক্য ও আত্মপরিচয় পুনর্গঠনের প্রশ্ন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
এই রক্তস্নাত শতক শুধু অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের সতর্কবার্তাও।