|| দা বেঙ্গল নিউজ || ১৪ আগস্ট ২০২৫ || এমএইচএম
আরাকান। একসময় সমৃদ্ধ মুসলিম জনপদ, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আজান ধ্বনিত হয়েছে, ইসলামী সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে। কিন্তু আজ সেই আরাকান রূপ নিয়েছে আগুন, রক্ত আর ধ্বংসস্তূপে ভরা এক জনপদে। মিয়ানমারের বৌদ্ধ চরমপন্থী সেনারা পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলছে এক জাতির অস্তিত্ব—রোহিঙ্গা মুসলিমদের।
ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিশুদের কেটে ফেলা হয়েছে, নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে, মসজিদ-মাদরাসা ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনকি কবরস্থানও রক্ষা পায়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একের পর এক রিপোর্ট প্রকাশ করছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পশ্চিমা দুনিয়া, যারা মানবাধিকার নিয়ে এত উচ্চকণ্ঠ, তারা এখানে চুপ—কারণ ভুক্তভোগীরা মুসলিম!
সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা আজ মুসলিম উম্মত ৫০টির বেশি রাষ্ট্রে বিভক্ত, বিপুল সম্পদ, সেনাবাহিনী, ও কৌশলগত শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা আরাকানের জন্য কার্যকর কিছু করছে না। জাতিসংঘে একের পর এক প্রস্তাব পাস হলেও, তা কাগজে-কলমেই রয়ে যাচ্ছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কেবল উদ্বেগ প্রকাশের ভাষণ দিচ্ছে, কিন্তু নির্যাতিত ভাইদের জন্য সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে কোনো বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ইসলামের ইতিহাস প্রমাণ করে—যখন মুসলিমরা এক দেহের মতো কাজ করেছে, তখন তারা বিশ্বের যেকোনো অত্যাচার থামিয়ে দিতে পেরেছে। কিন্তু আজ জাতীয়তাবাদ, সীমান্ত, ক্ষমতার রাজনীতি আমাদেরকে ভাই থেকে ভাইকে আলাদা করেছে।
এ অবস্থায় কিছু নেটিজেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, ২৫ আগস্ট (পরবর্তীতে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে কর্মসূচির) তারা পালন করবেন ‘মার্চ ফর রোহিঙ্গা।’ । এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়—এটি ২০১৭ সালের সেই ভয়াল স্মৃতির প্রতীক, যেদিন লাখো রোহিঙ্গা নিজের জন্মভূমি ছেড়ে কাঁদতে কাঁদতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এখন অপেক্ষার পালা কোন দিন এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
যদিও এই কর্মসূচির উদ্যোক্তারা এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি, তবে অনেকেই মনে করছেন—এটি আবারও আরাকানের দিকে তাকাতে বাধ্য করতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কি উম্মতের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করবে, নাকি কেবল এক দিনের স্লোগান হয়ে মিলিয়ে যাবে?
যখন ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন পশ্চিমা দেশগুলো বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা পাঠিয়েছে, শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে। কিন্তু আরাকানের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান—চুপ, উদাসীন, এবং কূটনৈতিক ভদ্রতা। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ইসলামবিদ্বেষ।
তাহলে আজ যদি আরাকানের মুসলিমরা নির্যাতিত হয়, তা পুরো উম্মতের জন্য লজ্জা ও ব্যর্থতার প্রমাণ। ২৫ আগস্ট হতে পারে সেই দিন, যেদিন উম্মত তাদের নীরবতা ভেঙে দাঁড়াবে। তবে শর্ত একটাই—এটি যেন এক দিনের প্রদর্শনী না হয়, বরং মুক্ত আরাকানের পথে এক অবিরাম সংগ্রামের সূচনা হয়।