মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বিস্ময়কর মোড় এসেছে—আরব অঞ্চলের একাধিক প্রভাবশালী দেশের শাসকগোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে গোপনে প্রস্তাব দিয়েছিল গাজা ভূখণ্ড ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার বিনিময়ে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থসহ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই প্রস্তাবে বলা হয়, হামাসের প্রধান ইয়াহইয়া সিনওয়ারসহ প্রায় ৩০০ শীর্ষ নেতা যদি গাজা ছাড়েন এবং রাজনৈতিক-সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন, তাহলে তাদের পরিবার-পরিজনসহ অন্য দেশে আশ্রয়, বিলাসবহুল জীবন এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
প্রস্তাবটি আসে এমন সময়, যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছে এবং মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
হামাসের সোজাসাপ্টা জবাব: “মাটি ছেড়ে যাব না”
হামাসের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এক নেতার ভাষায়:
“গাজা আমাদের শহীদদের রক্তে রঞ্জিত ভূমি। এই ভূমি আমরা বিক্রি করিনি, করবো না। মজলুম জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার চেয়ে মৃত্যুকে বরণ করাই শ্রেয়।”
এই অবস্থানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন হামাসের নৈতিক দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের প্রতি অবিচলতা হিসেবে।
হামাস বরাবরই গাজাকে ফিলিস্তিনি পরিচয়ের প্রতীক এবং প্রতিরোধের মূল ঘাঁটি হিসেবে দেখেছে।
এমন প্রস্তাব তাদের জন্য শুধু অবমাননাকর নয়, বরং জাতীয় আত্মমর্যাদার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেই মনে করছে সংগঠনটি।
আরব শাসকদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক
এই ঘটনা সামনে আসার পর আরব বিশ্বের শাসকগোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
যেখানে ফিলিস্তিনের মানুষ প্রতিদিন মৃত্যু, ক্ষুধা ও বোমার আঘাতের মুখে পড়ছে—সেখানে ‘আর্থিক প্রলোভন’ দিয়ে প্রতিরোধ থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা অনেকের কাছেই নিন্দনীয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করার একটি চক্রান্ত, যাতে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হয়।
এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে হামাস প্রমাণ করেছে—তারা শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং একটি আদর্শিক আন্দোলন, যা অর্থ বা সুবিধা দিয়ে কিনে নেওয়া সম্ভব নয়।
গাজা ছাড়ার চেয়ে তারা শহীদ হওয়াকেই বেছে নিয়েছে।