হারল ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র, দিন শেষে জয় পুতিনের
ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছাড়তে হবে, কমাতে হবে সেনাবাহিনী—ন্যাটোয় যোগ দেওয়া চিরতরে বন্ধ
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার যে নতুন ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তাতে স্পষ্ট—পশ্চিমা বিশ্বের দুই বছরের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, আর জয় হয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার সাহায্য, অত্যাধুনিক অস্ত্র, কঠোর নিষেধাজ্ঞা—সবকিছু দিয়েও রাশিয়াকে চাপে ফেলতে পারেনি। পুতিন শুরু থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন, “লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এক পা পিছাব না।”
শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা শক্তিগুলো বাধ্য হয়েছে রাশিয়ার শর্তেই শান্তি পরিকল্পনা করতে।
শান্তি পরিকল্পনার মূল পয়েন্ট (সংক্ষেপে)
রাশিয়ার শর্ত—যা যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে
১) ভূখণ্ড ছাড়:
ক্রিমিয়া, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক—রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখা অনুযায়ী “ফ্রিজ” হবে।
২) ন্যাটো নিষিদ্ধ:
ইউক্রেন সংবিধানে লিখবে—কখনও ন্যাটোয় যোগ দেবে না।
ন্যাটোও প্রতিশ্রুতি দেবে—ইউক্রেনকে ভবিষ্যতেও নেবে না।
৩) সেনাবাহিনী সঙ্কোচন:
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ ৬ লাখে নামাতে হবে।
ইউক্রেনে ন্যাটোর কোনো বিদেশি সেনা থাকবে না।
৪) রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা:
রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র যৌথ নিরাপত্তা কমিটি হবে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো উসকানি দিলে চুক্তি বাতিল হবে।
৫) নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার:
ধাপে ধাপে রাশিয়াকে আবার বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা হবে।
রাশিয়াকে আবার জি–৮ এ নেওয়ার পরিকল্পনাও আছে।
৬) ইউক্রেনের পুনর্গঠন:
জব্দ সম্পদ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার পুনর্গঠনে ব্যয় হবে।
মার্কিন কোম্পানিগুলো লাভের বড় অংশ পাবে।
৭) পারমাণবিক ইস্যু:
ইউক্রেন অ-পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে।
রাশিয়া নতুন পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে সম্মত হবে।
৮) যুদ্ধবিরতি:
সবপক্ষ নির্ধারিত এলাকায় সরে গেলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া
জেলেনস্কি জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে তিনি প্রস্তুত। আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
ইউরোপের প্রতিক্রিয়া
ইউরোপের বহু দেশ বলছে—এই পরিকল্পনা ইউক্রেন নয়, বরং রাশিয়ার স্বার্থকেই বেশি শক্তিশালী করে।
দিনশেষে বিশ্ব যা দেখল
দুই বছরের যুদ্ধ, বিলিয়ন ডলার সাহায্য, সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চাপ—কিছুই শেষ পর্যন্ত বাধা হতে পারেনি পুতিনের দাবির সামনে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো—
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম বড় রাজনৈতিক বিজয় পুতিনের হাতেই।