দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে রাতভর বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। পবিত্র রমজান মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে নির্বিচার এ হামলায় গত দু’দিনে অন্তত ৯৭০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৪৮,৫৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, মঙ্গলবার ভোরে বোমাবর্ষণে নিহত ৪৩৬ জনের মধ্যে ১৮৩ শিশু রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে হামাস কর্মকর্তা তাহের আল-নোনো বলেছেন,
“গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও আমরা আলোচনার দরজা বন্ধ করিনি। তবে স্বাক্ষরিত চুক্তি থাকলে নতুন চুক্তির প্রয়োজন নেই।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পেয়েই মূলত হামাসের যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী কেবল হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তবে বাস্তবে গাজার সাধারণ বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন,
“ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে যুদ্ধ আবার শুরু করেছে ইসরায়েল।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন,
“এটা কেবল শুরু।”
গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, তেল আবিবে হাজারো ইসরায়েলি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলি হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন, আর সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।