সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাশাকাহ প্রদেশে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আজ ভোরে মর্টার ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, এই হামলা ছিল ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধ পরিকল্পনার অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘Operation Midnight Hammer’ নামক সামরিক অভিযানের জবাবে সংগঠিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বেড়ে যায়। ইরান তখনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তারা “প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হবে”। সেই প্রেক্ষাপটে সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে এই হামলাকে বিশেষজ্ঞরা প্রতিশোধমূলক পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে হামলায় তাদের ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তারা আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অন্যান্য ঘাঁটিগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাডার, পেট্রিয়ট মিসাইল ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় সংঘাতের শুরু হতে পারে, যদি দুই পক্ষ শান্তিপূর্ণ সমাধানে না পৌঁছায়। এদিকে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই পক্ষগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান কেবল সিরিয়া নয়, ইরাক, লেবানন এবং ইয়েমেনেও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নতুন হামলা চালাতে পারে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘর্ষের ভয়াবহতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: