১৫ জুন ২০২৫ | আরাকান ইনফো নেটওয়ার্ক
মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যের বুথিডং টাউনশিপে ফের রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে বৌদ্ধ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (AA)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিয়ে তাদের এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য নতুন বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাত্র দুই মাস আগে সংঘর্ষের পর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সীমিত পরিসরে শহরে ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছিল AA। কিন্তু হঠাৎ করেই সংস্থাটি তাদের পুনরায় গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দিলে, ফিরে আসা রোহিঙ্গারা আবারও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
“আমরা অনেক কষ্টের পর শহরে ফিরে এসেছিলাম, সবকিছু হারিয়ে আবার জীবন গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। এখন আবার আমাদের বের করে দিচ্ছে। আমি জানি না এখন কোথায় যাবো,” — বলেন বুথিডং শহরের ওয়ার্ড ১ এর এক রোহিঙ্গা শরণার্থী।
গত কয়েক মাসের সংঘর্ষে বুথিডংসহ আশপাশের বহু গ্রাম পুড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে যায় সেইন নিউং প্যিন ও ফোন ন্যো লাইক-এর মতো অস্থায়ী শিবিরে।
এরপর AA শহরের ওয়ার্ড ১, ২, ৩ ও ৪-এ কেবলমাত্র কিছু রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরতে দেয়, যারা মূলত স্থানীয় অধিবাসীদের আত্মীয় ছিলেন।কিন্তু এখন নতুন নির্দেশে সেই পরিবারগুলোকেও শহর ছাড়তে বলা হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো রোহিঙ্গা সম্প্রদায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, “আমরা কোথাও যেতে পারছি না। কোনো আশ্রয় নেই। আমরা AA-র কাছে অনুরোধ করেছি যেন অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে দেওয়া হয়।”অন্যদিকে, যারা ইয়াঙ্গুন বা বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই মূল রোহিঙ্গা অধিবাসীদের এখনও ফিরে আসার অনুমতি দিচ্ছে না AA।
তাদের পুরনো ঘরবাড়ি এখন ফাঁকা পড়ে আছে কিংবা সেখানে রাখাইন, থেট ও মিও সম্প্রদায়ের পরিবারদের বসানো হচ্ছে।মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি স্পষ্টভাবে রোহিঙ্গাদের ফের একটি পরিকল্পিত উচ্ছেদ এবং জাতিগত পুনর্বিন্যাসের অংশ। AA বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় বৌদ্ধদের জন্য নতুন বসতি গড়ে তুলছে, তাতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব আরাকানে আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সূত্র আরাকান ইনফো নেটওয়ার্ক: Arakan Desh TV