১৬ জুলাই ২০২৫ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশে গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে জাতীয় দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হলেও, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীরতর হচ্ছে — সিরিয়া আবারও আক্রান্ত হয়েছে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে।
দামেস্ক এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের টার্গেটেড বিমান হামলায় একাধিক বসতি, মসজিদ ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত হয়েছেন বহু সাধারণ নাগরিক, আহতদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিশুরাও।
ইসরায়েলের দাবি তাদের ভাষ্যমতে, “সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা” ও “সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ” গ্রহণ করতে গিয়েই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আধিপত্য বিস্তারের ধারাবাহিকতা মাত্র।
বাংলাদেশে এর প্রতিফলন কী? বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই “সংখ্যালঘু নিরাপত্তা” ন্যারেটিভটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি পুরনো হাতিয়ার, যা বাংলাদেশেও বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক বিভাজন, আন্তর্জাতিক মহলে বদনাম এবং এক ধরনের ‘মরাল সাপিরিয়রিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই কৌশল ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী অনেকটাই জায়নিস্ট কৌশল অনুসরণ করছে। আর তাই দক্ষিণ এশিয়ায়ও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে — যেখানে একটি দেশকে দুর্বল করতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ইস্যুতে চাপ তৈরি করা হবে।
টেমু ভার্সন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক একটি সূত্র দাবি করেছে, বাংলাদেশে ‘টেমু ভার্সন’ নামে ইসরায়েলি আদলে এক ধরনের ‘সফট পাওয়ার প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে— যেখানে মিডিয়া, এনজিও, সামাজিক আন্দোলন ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে মৌলিক চিন্তা-চেতনায় প্রভাব ফেলার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশ্লেষক বলেন,
> “ফিলিস্তিনে যা পরীক্ষা করা হয়, তা ভবিষ্যতে অন্যত্র প্রয়োগ হয় — বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম হতে পারে না।”
সিরিয়ার পুনর্গঠনের পথে বাধা কে? ২০১১ সালের বিপ্লব-পরবর্তী সময় থেকে সিরিয়া একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের লাগাতার হস্তক্ষেপ সে চেষ্টাকে প্রায়শই থামিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশে যদি ভবিষ্যতে কোনো রূপান্তরমূলক রাজনৈতিক বা আদর্শিক পরিবর্তন আসে, তাহলে ভারতের ভূমিকা একইরকম প্রতিহিংসাপরায়ণ হতে পারে।
মানবিক আবেদন। বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে — সিরিয়ার এই মানবিক সংকটে এগিয়ে আসার জন্য। বিশ্বরাজনীতির বাস্তবতায়, স্থানীয় সংকট এবং আন্তর্জাতিক আগ্রাসন এখন পরস্পর সংযুক্ত। সিরিয়ার ঘটনাবলি আমাদের জন্য শুধুই খবর নয়, বরং একটি আগাম সতর্কবার্তা — বিশেষ করে যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়া হয়।