গত ১৮ মার্চ রাত থেকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গ করে অনবরত বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
সম্প্রতি মিডল ইস্ট আই-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন যায়েদ আল নাহিয়ান এই হামলাকে ত্বরান্বিত করতে গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কায়রোর প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরবর্তী গাজার পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে আরব লিগ অনুমোদন দিলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত সেটির বিরোধিতা করেছে এবং গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভিন্ন পরিকল্পনার আলোচনায় জড়িয়েছে।
পরিকল্পনাটি অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে এবং এটি বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত না করেই বাস্তবায়ন সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার বাসিন্দাদের মিসর ও জর্ডানে পাঠিয়ে সেখানে উপকূলীয় পর্যটন শহর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কায়রোর জন্য এই পরিস্থিতি দোটানার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর—দুই দেশই ফাতাহর নির্বাসিত সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাহলানকে গাজার নেতৃত্বে দেখতে চায়।
অন্যদিকে, আরব লিগের পরিকল্পনাকে “অকার্যকর” আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে আমিরাত। তাদের দাবি, কায়রো হামাসকে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আরব আমিরাতের দূত ইউসেফ আল ওতাইবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য লবিং করছেন।
এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও এক মিসরীয় কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জায়গা দিতে মিসরকে চাপ দিচ্ছে।
ইতিপূর্বে ওতাইবা বলেছিলেন,
“ফিলিস্তিনিদের জোর করে গাজা উপত্যকার বাইরে পাঠিয়ে দিতে ট্রাম্প যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তার কোনো বিকল্প আমি দেখি না।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মিসরভিত্তিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা হচ্ছে হামাস, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মুসলিম ব্রাদারহুডকে দমন করতে চায়।
এ কারণেই হামাসের প্রতি আরব আমিরাতের এই বিরুদ্ধাচরণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।