ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মঙ্গল শোভাযাত্রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের প্রতীকী ভাস্কর্য রাখা নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুরুতে এটি শোভাযাত্রার অংশ হিসেবে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবারের আপত্তি এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার কারণে এটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাবি চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজাহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বকে তুলে ধরতে প্রতীকী মোটিফ নিয়ে ভাবনা ছিল। তবে যেহেতু তার পরিবার এটি চায় না, তাই আমরা আর এটি রাখছি না।”
এর আগে, আবু সাঈদের পরিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় যে তারা শোভাযাত্রায় কোনো ভাস্কর্য চান না।
আবু সাঈদের স্মৃতি নিয়ে প্রতীকী ভাস্কর্য তৈরির খবর প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন বলেন, “আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবু সাঈদের ভাস্কর্য চাই না, আমরা এর পক্ষে নই। ওর বন্ধু-বান্ধবরাও ফেসবুকে পোস্ট করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে, যা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সামাজিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতীকী উপস্থাপনা করা হয়। এবারের আয়োজনে আবু সাঈদের প্রতীকী উপস্থিতির পরিকল্পনা থাকলেও তা এখন আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
আবু সাঈদের স্মরণে ভাস্কর্য না রাখার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি পরিবারের আস্থার প্রতিফলন। তবে এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলমান রয়েছে।
নববর্ষ উদযাপন এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উপস্থাপনা কেমন হবে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।