সম্প্রতি অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা আউটলুক-এ সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিশিষ্ট দ্বীনি ব্যক্তিত্ব শায়খ মাহমুদুল হাসান গুনভি ও মাওলানা শের মুহাম্মদ-এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এই বলে যে, তারা নাকি যুবকদের “পাকিস্তানে হিজরতের জন্য আদর্শিকভাবে প্রস্তুত” করছেন। যার সুস্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোন প্রমাণ জুলকারনাইন দিতে পারেনি।
এই প্রতিবেদনের পর সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আলেম সমাজের অনেকে বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে দেশে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইছে একটি মহল।
সূত্র বলছে, প্রতিবেদনে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা এসব কর্মকাণ্ডে কোনোভাবেই যুক্ত নন—বরং তারা বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও দাওয়াতি কাজেই নিয়োজিত। এই ধরনের সংবাদ তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন অনেকেই।
সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ রাশিয়া বা ইউক্রেনে যুদ্ধে গেলে তাকে বলা হয় ‘যোদ্ধা’, কিন্তু কেউ পাকিস্তানে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়—এই দ্বৈত মানদণ্ড স্পষ্ট পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের পার্বত্য অঞ্চল থেকে কিছু পাহাড়ি যুবক আরাকানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং পরে দেশে ফিরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। অনেকেই আরাকান আর্মির হয়ে লড়ছে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বাস্তব হুমকি। অথচ এসব স্পষ্ট ও প্রমাণিত ঘটনায় তথাকথিত সাংবাদিকদের কোনো প্রতিবেদন দেখা যায় না।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মন্তব্য,
> “যে মহল অতীতে ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে গুম-খুনের রাজনীতি, ইসলামী নেতা ও আলেমদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল নিয়েছিল, সেই পুরোনো কায়দা আবার ফিরিয়ে আনতে চাইছে জুলকারনাইন সায়ের ও কদরুদ্দীন শিশিরেরা।”
অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এমন অসত্য প্রচারে সাহস না পায়।
দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন কেবল সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।