চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাহাড়টি বর্তমানে “চন্দ্রনাথ পাহাড়” নামে পরিচিত হলেও স্থানীয় মুসলিম সমাজ ও ইতিহাসবিদদের দাবি, এর প্রকৃত নাম “বায়জিদ বোস্তামি পাহাড়”
ব্রিটিশ আমলসহ দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়টি বায়জিদ বোস্তামি নামে পরিচিত ছিল। পরে জমিদার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু প্রভাবশালী মহল নাম পরিবর্তন করে “চন্দ্রনাথ” রাখে।
মুসলিম ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার অভিযোগ
মুসলিম জনমত বলছে, স্বাধীনতার পর নানা সময়ে মুসলিম ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে ধ্বংস করার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই পাহাড় থেকে “বায়জিদ বোস্তামি” নামটি মুছে দিয়ে হিন্দু দেবতার নাম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারা বলছেন— ৯৩% মুসলমানের দেশে মুসলিমদের ঐতিহাসিক পাহাড়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং নামাজ আদায়ের অনুমতি না থাকা চরম বৈষম্য।
মুসলমানদের প্রবেশে বাধা, নামাজে নিষেধাজ্ঞা
স্থানীয় মুসলমান পর্যটকদের অভিযোগ, পাহাড়ে গেলে তাদের নামাজ পড়তে দেওয়া হয় না, এমনকি আজান দেওয়ার চেষ্টা করলে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। অথচ পাহাড়ের চূড়ায় একাধিক মন্দির অবাধে পরিচালিত হচ্ছে।
নতুন চক্রান্তের অভিযোগ
সাম্প্রতিক সময়ে খবর এসেছে, কিছু সংগঠন এ পাহাড়কে কেবল নির্দিষ্ট একটি ধর্মের জন্য দাবি করছে এবং মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করার প্রস্তাবও দিচ্ছে। স্থানীয় মুসলিমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পাহাড়ের দুর্গম অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এখানে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোপন কার্যকলাপ চালাচ্ছে।
তাদের দাবি, এটি কেবল ধর্মীয় নয়; জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
মুসলিম জনতার দাবি
পাহাড়টির প্রকৃত নাম বায়জিদ বোস্তামি পাহাড় ফিরিয়ে আনা
সকল মুসলমানের অবাধ প্রবেশ ও নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করা
পাহাড়ে একটি স্থায়ী মসজিদ নির্মাণ
এবং একচ্ছত্র আধিপত্যের চক্রান্ত বন্ধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া।
মুসলমানরা একবাক্যে বলছেন—
👉 “এটি আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের ইতিহাস, আমাদের অধিকার। চন্দ্রনাথ নয়, এটি বায়জিদ বোস্তামি পাহাড়।”