ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২৫:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহসী, সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা মেজর জিয়াউল হক বর্তমানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান সরকারবিরোধী বলে বিবেচিত হওয়ায়, তার বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়।
বিশ্লেষক ও সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, তিনি কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী নন—বরং ছিলেন ইসলামি মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার এক অটল রক্ষক এবং দেশপ্রেমিক এক মেজর। তাকে দমন করতে এক ডজনের বেশি মামলা দেওয়া হয়, যার মধ্যে তিনটি মামলায় আওয়ামী পন্থি বিচারকদের মাধ্যমে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশে ফেরার সব পথ তার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পরেও মুক্তি নেই, সরকার ব্যস্ত বিদেশি এজেন্ডা নিয়ে
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মী কারামুক্ত হলেও মেজর জিয়াউল হককে রেহাই দেওয়া হয়নি।
অপরদিকে, বর্তমান সরকার দেশজ সমস্যা উপেক্ষা করে ব্যস্ত জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস স্থাপন, এলজিবিটিকিউ প্রচার ও তথাকথিত ‘সংস্কার’ নিয়ে। দেশের জনগণ যখন মেধাবী ও নীতিবান সেনা কর্মকর্তার সুবিচার চায়, তখন রাষ্ট্রের কর্ণধাররা ব্যস্ত বিদেশি প্রভুদের খুশি রাখতে।
আইনি সহায়তা নেই, আলোচনার বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে
স্বরচিত প্রচারণার বাইরে মেজর জিয়াউল হকের বিষয়টি গণমাধ্যম বা বিশিষ্ট আইনজ্ঞদের আলোচনায় সেভাবে আসছে না। বরং কিছু প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এ বিষয়ে এক প্রকার ‘চুপচাপ’ অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া সাজানো মামলাগুলোর পুনঃপর্যালোচনার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
জনমতের চাপে আসছে নতুন প্রশ্ন: কেন চুপ সবাই?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে—“যখন দেশবাসী গণঅভ্যুত্থান করে পরিবর্তন চায়, তখন কেন একজন সৎ সেনা কর্মকর্তার ন্যায়বিচার দাবিতে সবাই চুপ?” তরুণ সমাজ, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন #FreeMajorZia এবং #JusticeForMajorZia হ্যাশট্যাগে সোচ্চার হয়ে উঠছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এই অফিসারকে অবিলম্বে অব্যাহতি দিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
—
সম্পাদকের মন্তব্য:
মেজর জিয়াউল হকের নির্বাসনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির দুর্দশা নয়, এটি আমাদের বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলে। যদি একজন সাহসী, আদর্শবান সেনা কর্মকর্তা মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত হয়ে থাকতে পারেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?