বিগত সময়ে অপরাধ দমন ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপে প্রশংসিত এই কর্মকর্তাকে ‘প্রথম আলো’-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সরানো হয় বলে অভিযোগ।
গাজীপুর, [29/10/2025] —
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানকে সম্প্রতি হঠাৎ করেই পদচ্যুত করা হয়। তার অপসারণকে ঘিরে স্থানীয় মহল ও নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র মতে, ২০২৩ সালে তিনি ফ্যাসিস্ট শাসনামলে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাকে পুনর্বহাল করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়দের অভিমত।
অভিযোগের সূত্র
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা— প্রথম আলো— একটি রিপোর্টে দাবি করে, কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান নাকি নিয়মিত গাজীপুরের রাস্তাগুলো ব্লক করে প্রটোকলসহ চলাচল করেন, ফলে জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।
এই প্রতিবেদনের পরই কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ড. নাজমুল করিম খানের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, “তিনি কেবল কমিশনার পদে প্রাপ্ত সরকারি প্রটোকলই ব্যবহার করতেন। গাজীপুরে তার কোনো সরকারি বাসস্থান না থাকায় পূর্ববর্তী কমিশনারদের মতোই তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন।”
জনদুর্ভোগ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে তিনি নাকি বলেছিলেন— “আমি কোনো যানবাহন আটকে রাখি না। কমিশনার চলাচলের সময় ট্রাফিক পুলিশ কেবল এলার্ট থাকে, এতে বরং যানজট কমে।”
নতুন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার
তার বদলে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাহিদুল হাসান, যিনি পূর্বে বিক্রমপুর এলাকায় সংঘটিত এক বিতর্কিত অভিযানের সময় সংবাদে এসেছিলেন।
প্রশ্ন ও বিতর্ক
কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন—
কেন ড. নাজমুল করিম খানকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়াই অপসারণ করা হলো?
কেন গাজীপুরে বেড়ে ওঠা ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তেজনার সময়েই প্রশাসনের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন হলো?
কেন নতুন কমিশনার ইসকন সংক্রান্ত প্রশ্নে বলেছেন, “বাংলাদেশে এমন কোনো সংগঠন নেই”?
এ নিয়ে এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রেক্ষাপট
গাজীপুরে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃসম্প্রদায়িক সম্পর্ক, কিশোর গ্যাং, ও নারীদের লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক প্রতারণা–এই তিনটি বিষয় স্থানীয় প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে একজন কার্যকর ও জনপ্রিয় কমিশনারের হঠাৎ অপসারণ প্রশাসনের ভেতরের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।