যশোরের ঝিকরগাছায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। উপজেলার গদখালীতে বেড়াতে গিয়ে নৃশংস এ ঘটনার শিকার হন তিনি। রোববার বিকেলে এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তরা গদখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা বলে জানা গেছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলু রহমান খান জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে থানার ডিউটি অফিসারে কাছে সাহায্যের জন্য ফোন করেন ভুক্তভোগী তরুণী। খবর পেয়ে তিনি ফোর্সসহ গদখালীর পটুয়াপাড়ায় অভিযুক্তদের অবস্থানস্থলে পৌঁছান। সেখান থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ জানায়, মনিরামপুর উপজেলার ওই তরুণী বেনাপোলে খালার বাড়ি থেকে ফেরার পথে গদখালী ফুল মোড়ে পৌঁছালে অভিযুক্ত চার যুবক তাকে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান এবং দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। অভিযুক্তরা হলেন গদখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, এবং ছাত্রদল কর্মী জাবের হোসেন ও আমিরুল ইসলাম।
ওসি বাবলু রহমান জানান, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তরুণীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আশরাফুল আলম রানা বলেন, “কোনো ব্যক্তির দায় সংগঠন নেবে না। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে কোনো অপরাধীর ঠাঁই নেই। অভিযুক্তদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান বলেন, “ভুক্তভোগী তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।