দেশের পোশাক খাতের বেশিরভাগ কারখানা শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করলেও এখনো ২৯৯টি কারখানার শ্রমিকরা বোনাস পাননি। শিল্প পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মোট ৯,৬৯৫টি কারখানার মধ্যে ৮,০৩৯টি ইতোমধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। তবে ৪,৩৫২টি কারখানা এখনো মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেনি, যা মোট কারখানার প্রায় ৪৫ শতাংশ।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ হয়েছে ৯৯.৫৩ শতাংশ কারখানায়, আর মার্চ মাসের আংশিক বা পুরো বেতন দিয়েছে ৮৩.২০ শতাংশ কারখানা। তবে গাজীপুরের টিএনজেড গ্রুপসহ কিছু কারখানার শ্রমিকরা এখনো বেতন-বোনাস না পাওয়ায় আন্দোলন করছেন। টিএনজেড গ্রুপের শ্রমিকরা ঢাকার শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। মালিকপক্ষ তাদের এক কোটি টাকা ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও শ্রমিকদের পাওনা সাত কোটি টাকার বেশি।
শ্রমিকদের দাবি, ঈদের আগেই তাদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হবে, না হলে তারা ঈদের দিনও ‘ভুখা মিছিল’ করবেন।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের দাবি, সরকারের প্রতিবেদনে প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধের কথা বলা হলেও বাস্তবে ১০ শতাংশেরও বেশি কারখানায় এখনো বকেয়া রয়ে গেছে।
জানা গেছে, গাজীপুরে মোট ২,১৭৬টি শিল্প-কারখানার মধ্যে ৭৭৬টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে এখনো ১২১টি কারখানা শ্রমিকদের বোনাস পরিশোধ করেনি। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, শনিবারের মধ্যে এসব কারখানা বোনাস পরিশোধ করবে। তবে সময়মতো বেতন-বোনাস না দিলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।
বিজিএমইএর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানান, পরিদর্শক কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতা দেওয়া কারখানার সংখ্যা ১,৯৯৭, যা মোট কারখানার ৯৪.৭৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯.৫৩ শতাংশ বা ২,০৯৭টি কারখানা।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ‘সরকার বলছে প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে হিসাব রয়েছে, তাতে ১০ শতাংশেরও বেশি কারখানায় বেতন-বোনাস হয়নি। শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের স্বার্থে যথাযথ উদ্যোগ নিলে এমন পরিস্থিতি হতো না।’
তিনি আরো বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে কাজ করছে না। তারা মালিকপক্ষের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। বেতন-বোনাসের হিসাব করা হচ্ছে কেবলমাত্র চালু কারখানার হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ আছে। কয়েক দিন আগেও তিনটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, মোট শিল্পের মধ্যে ১২১টি কারখানা এখনো বোনাস দেয়নি। তবে মার্চ মাসের বেতন দিয়েছে ৮০ শতাংশ কারখানা। শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।