আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মির ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল ভাওয়েল ২৪ মার্চ ঢাকায় পৌঁছাবেন। দুই দিনের সফরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। হাওয়াইয়ের ফোর্ট শাফটারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি প্যাসিফিক (ইউএসএআরপিএসি)-এর এই ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল রাত ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল ‘জেবি’ ভাওয়েল চার সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দেবেন, যারা ইউএসএআরপিএসি-এর অন্যান্য কর্মকর্তা। সফর শেষে ২৫ মার্চ তারা হাওয়াইয়ে ফিরে যাবেন। তিনি আফগানিস্তানে তিনটি ও ইরাকে দুটি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মিলিটারি অ্যাটাশে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল ই ডি মিচিয়েই-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মার্কিন দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অপারেশনস ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলিমুল আমিন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভাওয়েলের সফর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের সিটওয়ে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং দখলের পরিকল্পনা করছে। অসমর্থিত সূত্র অনুযায়ী, তাদের পেছনে একটি শক্তিশালী গোপন বাহিনী রয়েছে।
একজন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ বাংলাদেশের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। আরাকান আর্মির সরবরাহ লাইন রক্ষা করা মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মোতায়েন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা হয়তো এই বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা মূল্যায়ন করতে চাইছেন।”
রোহিঙ্গা ইস্যুর সঙ্গে রাখাইন সংকট গভীরভাবে জড়িত। বাংলাদেশ ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মংডু পতনের পর আরাকান আর্মি নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে দুই দিন অবস্থান করেছিল। তখন তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেছিল।
আরাকান আর্মির জন্য সিটওয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য, যা ভারতের জন্যও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের (কেএমটিটিপি) অংশ, যা ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় তৈরি হয়েছে।
সিটওয়ে বন্দর চালু হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মাল্টিমোডাল ট্রানজিট সংযোগ স্থাপিত হবে। এটি পালেটওয়া থেকে ভারতের মিজোরামের জোরিনপুই পর্যন্ত সড়কপথে সংযুক্ত হবে। বর্তমানে পালেটওয়া আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কলকাতা থেকে সিটওয়ে পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের টেকনাফ বন্দরের ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। টেকনাফ থেকে পণ্য সাবরুমে পাঠানো যেতে পারে, যা ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে, যা রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।