নর্দা মাদ্রাসার ঘটনায় বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুললেন রুহুল আমিন সাদি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার নর্দা এলাকায় একটি মাদ্রাসায় চুরির ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আচরণকে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও কলামিস্ট মাওলানা রুহুল আমিন সাদি।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নর্দা মাদ্রাসায় এক নারী চোর প্রবেশ করলে তাকে আটক করা হয়। পরে মারধর না করে তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে গায়ে পানি ঢেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ থেকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে শাহবাগের হাদী চত্বরে বন্দুকসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নেওয়া হলেও পরে সেটি খেলনা বন্দুক প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এর আগেও একটি মিছিলে দাড়ি-টুপি পরিহিত এক ব্যক্তির হাতে খেলনা পিস্তল পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সে ক্ষেত্রে খেলনা অস্ত্রের বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি।
রুহুল আমিন সাদির মতে, কারও মুখে দাড়ি-টুপি থাকলে বা তিনি মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে সাংবাদিক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হয়রানির প্রবণতা দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছর ধরে এ ধরনের আচরণ চলে আসছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে আলেম-উলামা, মাদ্রাসা এবং ধর্মপ্রাণ নাগরিকরা কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাদের ক্ষেত্রে মানবাধিকার কার্যকর হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ধরনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বা ছোট ঘটনা হিসেবে না দেখে সম্মিলিত প্রতিবাদের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজের বিভক্তি এবং পারস্পরিক দোষারোপের কারণে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, সুরভী গ্রেপ্তারের ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদ হওয়ায় প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু নর্দা মাদ্রাসার ঘটনায় মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট মহল থেকেই উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ দেখা যায়নি, যা তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন।