গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার ভোরে রাজধানীর নদ্দা মোড়ল বাজার এলাকায় অবস্থিত মারকাযুত তালীম আল-ইসলামী মাদ্রাসায় চুরির অভিযোগে এক অজ্ঞাত নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ওই নারী মাদ্রাসার চারতলার একটি কক্ষে প্রবেশ করে এক শিক্ষকের পাঞ্জাবির পকেট তল্লাশি করছিলেন
এ সময় মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী ঘটনাটি দেখে ফেললে বিষয়টি অন্যদের জানানো হয়। পরে মাদ্রাসার লোকজন ওই নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চোর ধরা পড়লে সাধারণত মারধরের ঘটনা ঘটলেও ওই ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ‘মজা করে’ তার গায়ে পানি ঢেলে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও তিনজন নাবালক শিক্ষার্থীকে আটক করে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, ভোর ৬টার দিকে ওই নারী চুরির উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন এবং হাতেনাতে ধরা পড়েন। তিনি বলেন, “এত সকালে পুলিশ কোথায় পাওয়া যাবে—এই চিন্তা থেকে তারা নিজেরাই ‘পানিশমেন্ট’ হিসেবে ঠান্ডা পানি ঢেলেছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমরা পাঁচজনকে গ্রেফতার করি।”
পরে ঢাকার একটি আদালত আটক পাঁচজনকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্টার নিউজের সঙ্গে কথা বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, চোরকে এভাবে পানি ঢেলে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, ওই নারী এর আগেও একই মাদ্রাসা থেকে প্রায় ১০টি মোবাইল ফোন ও টাকা চুরি করেছিলেন। তখন ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে শনাক্ত করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক নেটিজেন প্রশ্ন তুলছেন, চোরকে ছেড়ে দিয়ে যাদের ঘরে চুরি করতে ঢুকেছিল তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কতটা ন্যায়সঙ্গত। একই সঙ্গে তারা জানতে চাইছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নারী না হয়ে পুরুষ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কথিত মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিক্রিয়া একই রকম হতো কিনা।