২২ জুলাই ২০২৫ ।। TBN desk ।। ঢাকা
মাইলস্টোন কলেজ দুর্ঘটনা: নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা ঘিরে ধোঁয়াশা, সেনা নিয়ন্ত্রণে কলেজ এলাকা। রাজধানীর বিখ্যাত মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর গোটা দেশ স্তব্ধ। প্রাথমিকভাবে নিহতদের যে সংখ্যা জানানো হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানির তথ্য সামনে আসছে।

একাধিক শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, একজন শিক্ষার্থী নিজের চোখে ১৯টি মৃতদেহ দেখতে পেয়েছে এবং আরও জানাচ্ছে:
“২ মিনিট দূরত্বের ফায়ার সার্ভিস আসতে ৩০ মিনিট লেগে গেছে।”
আরও একটি ভাইরাল মেসেজে বলা হয়েছে:
“207 জন বাচ্চা, 7 জন শিক্ষক, 14 জন গার্ডিয়ান, 12 জন ব্যাচমেট, 2 জন ভাইয়া, 2 জন পাইলট — এদের সবাই মারা গেছে।”
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি চ্যাটে একজন শিক্ষার্থী লিখেছে:
“আমাদের শিক্ষকরা কিছুই বলতে পারছেন না। কলেজ এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সাংবাদিকদের কথা বলার সময়ও বাধা দেওয়া হচ্ছে। যারা বেঁচে গেছে, তাদের অনেককেই ১০০+ মৃতদেহ সনাক্ত করতে বলা হচ্ছে, কিন্তু কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”
একই সঙ্গে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে সেনাবাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে। কেউ কেউ দাবি করছে, নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে। এই ভিডিও আমাদের চ্যানেলেও রয়েছে এবং আমরা তা যাচাই করে নিশ্চিত করেছি।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী Maruf Bin Ziaur Rahman নিজের টাইমলাইনে লিখেছেন:
“এক মাইলস্টোন হোস্টেল শিক্ষার্থী বলছেন, আর্মি সদস্যরা পিছনের দরজা দিয়ে হাড় বালতি করে সরাচ্ছেন।”
(অনেকে বলেছে এটা সত্য এবং “বস্তায় বস্তায় লাশ বের হচ্ছে।”)
এই পোস্টে স্ক্রিনশট নিয়ে আরেকজন ব্যক্তি মেসেঞ্জারে অন্য ব্যক্তিকে আরও বলেন:
“Eita 100% real। Amar hostel er friend ke ektu agge call disilam। Oder kas theke sob phone kere newa hoise।”
এ থেকে স্পষ্ট যে, সেনাবাহিনী কড়া নজরদারির মাধ্যমে ঘটনাস্থলের খবর ছড়ানো রোধ করছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ফেসবুকে যমুনা টেলিভিশনের অফিসিয়াল পেজের একটি পোস্টের এডিট হিস্টোরি ঘেঁটে দেখা গেছে, তারা প্রথমে লিখেছিল:
“শতাধিক লাশ স্বচক্ষে দেখার পরেও পরিষ্কার বিবৃতি পাইনি।”
পরবর্তীতে তারা সেটি এডিট করে শিরোনাম করে:
“মধ্যরাতে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা হতাহতদের নিয়ে যা বললেন”
এটি দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—সত্য আড়াল করতেই কি সংবাদ মাধ্যমকে চাপ দিয়ে এডিট করানো হয়েছে? নাকি নিজেরাই সেনা বা প্রশাসনিক চাপে এমনটি করেছে?
এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় জনমনে সন্দেহ বাড়ছে। অনেকে বলছেন, তারা বিবৃতি দিলেও আসল সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে। নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা কি জানানো হচ্ছে না? কেন সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলো এখন সামাজিক মাধ্যমে তীব্রভাবে আলোচিত।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবিতে জনমত গঠিত হচ্ছে।
বি.দ্র.: আপনি যদি ঘটনাস্থলে থাকেন বা নির্ভরযোগ্য তথ্য পান, অনুগ্রহ করে আমাদের জানান।