আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য কি এক ভয়ংকর পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে? এই প্রশ্ন এখন কুড়িগ্রামের রৌমারী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রৌমারীর এক প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তি জনপ্রিয়ভাবে যিনি ‘হাজী সাহেব’ নামে পরিচিত। নিজ বাড়ির আঙিনায় নির্মাণ করেছেন একটি গির্জা এবং একটি খ্রিস্টান ধর্মভিত্তিক স্কুল। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর জন্য একটি খ্রিস্টান পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হলো এই ব্যক্তি তার ছেলে সাদ্দাম হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে পাঠিয়েছেন খ্রিস্ট ধর্মের উপর উচ্চতর লেখাপড়া করাতে, যেন তারা নিজ এলাকায় খ্রিস্ট ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রচার করতে পারে।
অথচ এই এলাকায় একসময় একজন খ্রিস্টানও ছিল না, আর এখন সেখানে একাধিক পরিবার খ্রিস্ট ধর্ম পালন করছে। যাদের পূর্ব পরিচয় ছিল মুসলিম।
এই প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম দাওয়াতি কাফেলার মুখপাত্র ফিরদাউস হাসান জানান, “আমরা বারবার বলে আসছি মাদ্রাসা-মসজিদের খেদমতের পাশাপাশি মাসে অন্তত ৩ দিন অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতি মিশনে সময় দিতে হবে। কিন্তু আমাদের এই আহ্বানকে অনেকে তুচ্ছ করে। অথচ, সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন ইসলামের রক্ষাকবচ। তারা নিজেদের ঈমান এবং মুসলিম এলাকাগুলোর হেফাজতে সদা প্রস্তুত থাকতেন।”
তিনি আরও বলেন: “আজ আমরা শুধু হিফজ বিভাগ, নূরানী বিভাগ, কিতাব বিভাগ এসব চালু করি, শিক্ষক নিযুক্ত করি। কিন্তু কেন দাওয়াতি বিভাগ চালু করে সেখানে একজন দায়ী নিযুক্ত করি না!? দাওয়াত ছাড়া কি দ্বীনের হেফাজত সম্ভব?”
স্থানীয় ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করছেন, দাওয়াতি কার্যক্রমে ঘাটতির কারণেই এই ধরনের ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটছে।
বর্তমানে পূর্ব তিমুর বা ইউরোপের বহু মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর মতো পরিণতি যাতে ভবিষ্যতের প্রজন্মের ভাগ্যে না জোটে, সেজন্য এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।
নিউজ ডেস্ক | কুড়িগ্রাম | ফিরদাউস হাসান
দাওয়াতি কাফেলা, কুড়িগ্রাম