ভারতে রমজানেও মুসলমানদের ওপর হামলা: ১৫১ জন আলেমের গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ
ভারতে পবিত্র রমজান মাসেও উগ্র হিন্দুদের দ্বারা মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ১৫১ জন বিশিষ্ট আলেম। তারা অবিলম্বে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, রমজান হলো পবিত্র মাস। এ মাসে বিশ্বের মুসলমানেরা ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন। রমজানের মর্যাদা ও সম্মানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানান, এমনকি ইফতারে অংশগ্রহণ করেন। অথচ, ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতেই মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা নির্বিঘ্নে ইবাদত পালন করতে পারছেন না; বরং তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। লাউড স্পিকারে আজান দেওয়ায় ইমামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হোলির উৎসবকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়ে নামাজ শেষে বের হওয়া মুসল্লিদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা মুসল্লিদের মারধর করে এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেয়। এসব হামলায় হামলাকারীদের হাতে মদের বোতলসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র দেখা গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রমজানের মতো একটি পবিত্র মাসে রোজাদার মুসলমানদের রাস্তা আটকে হোলির রঙ মাখানো হয়। প্রতিবাদ করলে তাদের নির্মমভাবে মারধর করা হয়। নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়। এমনকি স্কুল, যানবাহন, ও বাড়িঘরে নারী ও শিশুরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।
বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলেমরা বলেন, এসব ঘটনা শুধু ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলেন, “আমরা দেখছি, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উগ্রতাকে হাতিয়ার করে একটি গোষ্ঠী মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। ভারতের সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব। এই নীরবতা আরো বেশি সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। এটি শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, গোটা মানবতার জন্য হুমকিস্বরূপ।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১৫১ জন আলেমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন—প্রফেসর ড. এবিএম হিজবুল্লাহ, শায়েখ আহমাদুল্লাহ, ড. মিজানুর রহমান আল আজহারী, মাওলানা ফখরুদ্দীন আহমাদ, মুফতি আমির হামজা, শায়খ হারুন আজিজী নদভী, মুফতি নোমান কাসেমী, শায়খ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আযহারী, ড. খলীলুর রহমান আল মাদানী, ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, শায়খ কামরুল ইসলাম সাইদ আল আনসারী, শায়খ ইউসুফ ওবায়দী, এবং মুফতি আরিফ বিন হাবিব।
বিবৃতিদাতারা ভারতের সরকারের কাছে অবিলম্বে এসব নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানদের ওপর এই ধরনের হামলা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মিথ্যা দাবিকে উন্মোচিত করছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিবৃতি দিয়ে সতর্ক করে আলেমরা বলেন, যদি এসব হামলা অব্যাহত থাকে, তবে এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।