ময়মনসিংহের ত্রিশালের এক কলেজছাত্রীর জীবন এক ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে চিরতরে বদলে গেছে। তরুণী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টিম প্রটেক্ট আওয়ার সিস্টার্স এর দায়িত্বশীল একজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে…
তখন সে হৃদয়বিদারক বার্তায় তার করুণ পরিস্থিতির কথা জানানোর চেষ্টা করেছিল!
কিছু মেসেজ দেওয়ার পর আর তাকে খোঁজে পাওয়া যায় নি!
তার আকুতি ছিলো–
“ভাইয়া, আপনাদের সাহায্য দরকার। প্লিজ দ্রুত কিছু করুন!”
ঘটনার শুরু হয় যখন মেয়েটি কলেজে আসা-যাওয়ার পথে এক ছেলের সঙ্গে পরিচিত হয়। ছেলেটির চেহারা ও পোশাক-আশাক দেখে তাকে মুসলিম মনে হয়। এমনকি তার জাতীয় পরিচয়পত্রেও একটি মুসলিম নাম উল্লেখ ছিল। এসব দেখে নির্ভরতা তৈরি হয়, এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
কিছুদিন পর ছেলেটি মেয়েটিকে জানায়, “আমি এখন চাকরি করি না, তাই তোমার পরিবার আমাদের বিয়েতে রাজি হবে না। তবে গোপনে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে করলে, পরবর্তীতে চাকরি পেলে তোমাকে ঘরে তুলব।”
অভিমানী তরুণী প্রেমে অন্ধ হয়ে সম্মতি দেয় এবং তারা গোপনে বিয়ে করে। সম্পর্ক গভীর হতে থাকলে ছেলেটি তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে। এরপর একদিন সে ভয়ংকর সত্যটি প্রকাশ করে— তার নাম নয়ন সাহ, এবং সে হিন্দু ধর্মের অনুসারী।
মেয়েটি শোকে পাথর হয়ে যায়। সে প্রতারিত হয়েছে বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করলে ছেলেটি ভয় দেখায়, “তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, তাহলে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করো। নাহলে তোমার ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করে দেব!”
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মেয়েটি নিজেই ছেলেটির অতীত অনুসন্ধান শুরু করে। জানতে পারে, তার পরিচয়পত্র ভুয়া, এমনকি বিয়ে পড়ানো কাজীও প্রতারক। ছেলেটি তাকে ভারত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল, এবং যাবতীয় প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিল।
মেয়েটি সর্বশেষ এক মেসেজে সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানায়। এরপর তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
তার বর্তমান অবস্থা কী, তা কেউ জানে না। এ ধরনের প্রতারণা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সচেতন মহলকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আর কোনো তরুণী এমন ভয়ংকর ফাঁদে না পড়ে।
😢😡