তাওহিদী জনতার ওপর বাউলদের হামলার প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:২২
মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি এবং বাউলদের পক্ষ থেকে আলেম–ওলামা ও তাওহিদী জনতার শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ‘উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা’–র প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলেম–ওলামা ও তাওহিদী জনতার ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতে ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা মুজীবুর রহমান। তিনি বলেন, একটি পালা গানের আসরে বাউল শিল্পী আবুল সরকার মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে চরম অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন, যা একজন মুসলমানের জন্য উচ্চারণ করাও লজ্জাজনক। ইসলামী মূল্যবোধ, সামাজিক নীতি এবং সংবিধান অনুযায়ী এ ধরনের বক্তব্য গুরুতর অপরাধ বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়—এ উদ্যোগের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার আশঙ্কা—বিক্ষোভের পটভূমি
মুজীবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তার জামিনে মুক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে জেলার আলেম–ওলামা ও তাওহিদী জনতা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে মিছিল–সমাবেশ ও জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন।
প্রশাসন সময় নির্ধারণ করে দিলে আলেম–ওলামারাও তা মেনে নেন।
বাউল অনুসারীদের জটলা ‘নীরব উসকানি’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্ধারিত রুটে মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে চলার সময় আবুল সরকারের অনুসারীরা হাই স্কুল মাঠের আশপাশে জটলা পাকিয়ে অবস্থান নেয়। বক্তারা এটিকে ‘নীরব উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাদের মধ্যে মারমুখী আচরণ দেখা গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয়পক্ষের চারজন করে আহত হন।
বক্তারা এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা’—অভিযোগ আলেম–ওলামাদের
মাওলানা মুজীবুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করতে আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা সমাবেশস্থলের আশপাশে অবস্থান নিয়ে সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
“আমরা গান–বাজনার বিরুদ্ধে নই”—হেফাজত
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হেফাজতের সহ–আইন বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন,
“আমরা গান–বাজনার বিরুদ্ধে না। বাউলরা তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে গান করুক—সমস্যা নেই। কিন্তু ধর্মীয় বিষয়ের ভুল ব্যাখ্যা বা কটূক্তি কোনোভাবেই বরদাশতযোগ্য নয়। অপরাধ করেছে একজন—আমরা কেবল তারই শাস্তি চাই।”
মাওলানা মাহবুবুর রহমান বলেন, বাউলদের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি থাকবে। এ মামলাকে কেন্দ্র করে যদি প্রশাসন আলেম–ওলামাদের হয়রানি করে, তবে মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উপস্থিত ছিলেন
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—
জেলা হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল হান্নান,
হাসান মাহমুদ শরীফ, মাওলানা শামসুল ইসলাম,
প্রচার সম্পাদক মাওলানা কারী ওবায়দুল্লাহ,
তথ্য সম্পাদক দেওয়ান তানজিল আহমেদ,
দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মতিন,
সহ–আইন সম্পাদক ওমর ফারুক,
সদর উপজেলা সভাপতি মুফতি আব্দুল করিম কাসেমী,
সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান মাহমুদ,
মাওলানা আনোয়ার হোসেন রিয়াদসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম–ওলামা ও তাওহিদী জনতা।