সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা এক যুবকের গ্রেফতার এবং তাকে ঘিরে দায়ী-আলিম তরুণদের নাম জড়িয়ে কথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ইসলামপন্থি মহলে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাওহিদি জনতা এবং বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের দাবি, এটি সরকারের পুরনো এক অপচেষ্টা—যেখানে ইসলামি চিন্তাধারার কণ্ঠরুদ্ধ করতেই রাষ্ট্রীয় প্রশাসন “জঙ্গিবাদ” নামক ভৌতিক তকমা ব্যবহার করছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) পাকিস্তান ফেরত ফয়সাল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে কথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ মামলা করে সাভার থানায়। একইসাথে ইসলামী অঙ্গনে পরিচিত, দাওয়াতি কাজে সক্রিয় কয়েকজন তরুণ—আসিফ আদনান, জাকারিয়া মাসুদ, ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার, রেজাউল করিম আবরার এবং সানাফ হাসানকে এই মামলার আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
তাওহিদি জনতা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে:
“এই কথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ মামলা প্রমাণ করে, প্রশাসনের টার্গেট আসলে জঙ্গিবাদ নয়—টার্গেট হলো ইসলামী জাগরণ। যারা সমাজে কুরআনের আলো পৌঁছে দিচ্ছেন, দাওয়াতের কাজ করছেন—তাদের ভয় দেখিয়ে থামাতে চায় তারা।
তারা আরও বলেন,
“একজন যুবক বিদেশ গিয়েছে বলে তার সাথে যারা দেশে থেকে দাওয়াহর কাজ করছে, তাদের জুড়ে দিয়ে মামলা বানানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্দেশ্য একটাই—ইসলামপন্থিদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা।”
তাওহিদি জনতার নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন—
“জাতিসংঘ ও আমেরিকার বিতর্কিত ঈমান ধ্বংসকারী এজেন্ডা নীতিগুলোকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এ দেশের ইসলামি আদর্শবাদী আলেম ও দায়ী ভাইয়েরা যখন বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, তখনই কি গলার কাঁটা সরাতে আবার জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে?”
তারা বলেন,
> “হাসিনার আমলেও এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দমন করা হয়েছিল। এখন সেই পুরনো নাটক আবার শুরু হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্র বলছে, আসিফ আদনান ও জাকারিয়া মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি ছাত্র সমাজে দাওয়াহ কাজের সাথে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো উগ্রপন্থী বা সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তারা বইপড়া, ইসলামি আলোচনা, এবং তরুণদের দ্বীনের পথে উৎসাহিত করার কাজে সক্রিয় ছিলেন।
ফয়সালের ব্যাপারে এটিইউ দাবি করে, তিনি টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আফগানিস্তান সীমান্তে অবস্থান করেছিলেন। তবে তার এলাকাবাসীর দাবি, ফয়সাল ছিলেন একজন ধার্মিক ও নম্রস্বভাবের ব্যবসায়ী। তার টেলিকম দোকান ছিল সাভারে, এবং তিনি কোনোদিনও এ ধরনের চক্রের সাথে যুক্ত ছিলেন না।
তাওহিদি জনতার মতে,
> “আজ যদি আসিফ-জাকারিয়াদের নামে মামলা হয়, কাল সেটা হবে আমাদের সবার বিরুদ্ধে। এটি কোনো এক বা দুইজনের ইস্যু নয়—এটি গোটা উম্মাহর নিরাপত্তার ইস্যু। প্রশাসনের এই রূপ ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও পরিকল্পিত।”
তারা মনে করেন,
> “আজ যারা কুরআন-হাদীসের আলোকে জাতিকে সচেতন করছে, গণআন্দোলন ও খিলাফতের কথা বলছে—তারাই এই রাষ্ট্রে ‘ভীতিকর’ হয়ে উঠেছে। তাই তাদের থামাতে আবার ‘জঙ্গি’ শব্দটা ভাঙিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
তাওহিদি জনতা এই কথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ মামলাগুলোকে দ্রুত প্রত্যাহার, দাঈ ভাইদের মুক্তি এবং ইসলামি দাওয়াহ কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি আইনি ও গণমাধ্যমভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তোলার ডাকও দেওয়া হয়েছে।