TBN desk | প্রতিবেদন প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি নিয়ে জোরালো বিতর্ক চলছে। ইসলামী দলগুলো যখন একে স্বাগত জানাচ্ছে, তখন অনেক সচেতন নাগরিক মনে করছেন—এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য এক ভয়ংকর রাজনৈতিক আত্মহত্যা।
• সামগ্রিক আলোচনায় একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রায়ই উপেক্ষিত থাকছে—হিন্দু ভোট ও হিন্দু স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। PR পদ্ধতিতে হিন্দুদের আসন লাভ কেমন হতে পারে?
বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দু ভোটার প্রায় ৯০ লাখ। ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (FPTP) পদ্ধতিতে এদের সাংসদ হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তারা নির্দিষ্ট আসনে মুসলিম ভোট ছাড়াই জয়ী হতে পারে না। কিন্তু PR পদ্ধতিতে ৩০০ আসনে একজন দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিলেই, ভোট ভাগ করে তারা সহজেই ১৫টির মতো আসন পেতে পারে, এমনটাই অনুমান।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এরা আওয়ামী লীগের কোটা থেকে নির্বাচিত হিন্দু নয়, বরং ‘হিন্দু স্বার্থ’ ভিত্তিক নিরপেক্ষ শক্তি হবে। ফলে এসব এমপির দায় থাকবে কেবল নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি।
• হিন্দু এমপি মানে কেবল একজন সংসদ সদস্য নয়। বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের আইনগত ও বেআইনি ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই দেশের প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি। একজন এমপি— প্রশাসন চালাতে পারেন
এ অবস্থায় যদি কেউ মুসলিম সমাজবিরোধী কার্যকলাপে প্রশ্ন তোলে, এমপি স্তরে হিন্দু নেতা এর প্রতিবাদ জানালে প্রশাসন ব্যাকফুটে চলে যেতে বাধ্য।
• ইতিমধ্যেই হিন্দুদের একটি রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই গঠন করেছে একটি দল—বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (BMJP)। বর্তমানে ভোটে তাদের একটিও আসন নেই। কিন্তু PR পদ্ধতি চালু হলে, তারা সহসাই ১০টির মতো আসন পেয়ে যেতে পারে।
রাজনীতিতে যখন আসন থাকে, তখন নেতৃত্ব জন্ম নেয়। আর যখন নেতৃত্বের সঙ্গে প্রশাসনিক ক্ষমতা যুক্ত হয়, তখন সেটা সাধারণ দাবির চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
• হিন্দু রাজনীতি ও ভারতের ভূমিকা। ধরে নেওয়া যাক, উত্তরবঙ্গ বা চট্টগ্রামের মত স্পর্শকাতর জায়গায় তারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।তখন ভারতীয় মিডিয়া, তাদের রাজনৈতিক সমর্থন ও বাংলাদেশে ভারতপন্থী বুদ্ধিজীবী শ্রেণি সক্রিয় হয়ে উঠবে।ধর্মীয় সংখ্যালঘুর অধিকারের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার পথ তৈরি হবে।
• ইসলামী দলগুলোর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আজ যে দলগুলো নিজেদের ইসলামী পরিচয়ে পরিচিত করায়—জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, চরমোনাই—তাদের অনেকেই ক্ষমতা লাভের আশায় PR পদ্ধতির পক্ষে কথা বলছে।
একসময় যারা ইউনুসকে সুদখোর বলে ফতোয়া দিয়েছিলো, আজ তারা পশ্চিমা অসন্তোষের ভয়ে তাকেই মাথায় তুলে রাখছে।
• আমরা কী দেখছি? আমরা দেখছি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল:
পিআর পদ্ধতি শুধুই একটি ভোটের কাঠামো নয়—এটি ভবিষ্যতের রাজনীতির এক ভয়ংকর ল্যান্ডস্কেপ তৈরি করতে যাচ্ছে। এখানে গণতন্ত্র নয়, সংখ্যালঘু রাজনীতির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের কোণঠাসা করার আশঙ্কা প্রকট।
যখন হিন্দু সংগঠনগুলো PR পদ্ধতির পক্ষে রাস্তায় নামছে, তখন ইসলামী দলগুলোর চুপ থাকা এবং এতে সমর্থন দেয়া—এক ভয়ংকর বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।