সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনার সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ঘটনাটিকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের পুলিশের ভেতরে একটি বিশেষ বাহিনী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বাহিনীর নাম SPEAR (Special Program for Embassy Augmentation and Response) টিম।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে—এই টিম যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা রক্ষা করবে, বাস্তবে এর নিয়ন্ত্রণ ও অর্থায়ন করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস (DSS) এবং অ্যান্টি-টেরোরিজম অ্যাসিসট্যান্স (ATA) অফিস। অর্থাৎ বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় পুলিশ হলেও এর মূল কাঠামো, কৌশল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।
SPEAR টিম: বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
১. প্রক্সি সিকিউরিটি ফোর্স
SPEAR টিমকে অনেক বিশেষজ্ঞ “proxy security force” হিসেবে উল্লেখ করেন। কারণ এখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকলেও পরিচালনা, অর্থায়ন ও কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্র।
২. মার্কিন স্বার্থ রক্ষা
বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় নিরাপত্তা নয়, বরং মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এটি মূলত মার্কিন কূটনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের প্রতিরক্ষার একটি অংশ।
৩. স্থানীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে
SPEAR টিম অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কাজ করে। তারা সরাসরি মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
৪. Local face, foreign control
বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় পুলিশ হলেও তাদের প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, কৌশল ও মিশন যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করে। এর ফলে বাহিনীটি “স্থানীয় মুখ, বিদেশি নিয়ন্ত্রণ” কাঠামোয় দাঁড়ায়।
৫. জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব
SPEAR-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নে স্বতন্ত্রতা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশে মার্কিন দূতাবাস থাকলেও সব দেশে SPEAR টিম নেই। শুধুমাত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত, গৃহযুদ্ধপীড়িত বা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে এই বাহিনী গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে SPEAR টিম গঠনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক দিক নির্দেশ করে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।