নতুন টাকায় মন্দিরের ছবি: সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান কি সত্যিই এটি চায়?
ঈদের ঠিক আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে, বাজারে আসছে নতুন নকশার ১ হাজার, ৫০ এবং ২০ টাকার নোট। এই নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক নিদর্শনের ছবি—যার মধ্যে হিন্দু মন্দিরও রয়েছে।
গভর্নরের ভাষায়, এখানে “কোনো ব্যক্তির ছবি থাকবে না”, থাকবে দেশের ঐতিহ্য। উদ্দেশ্য ভালো—দেশের বৈচিত্র্য তুলে ধরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই বৈচিত্র্যের মধ্যে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে?
বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ ধর্মে আবেগপ্রবণ এবং ইসলাম তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাহলে এমন একটি সময়ে, যখন মুসলিমদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা সামনে, তখন হঠাৎ করে নতুন নোটে মন্দিরের ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত—এটা কি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের মতের প্রতিফলন?
আমরা জানি, একটি রাষ্ট্র সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাতে পারে—এটাই সহনশীলতা। কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের চাহিদা ও মানসিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রাখলে, প্রশ্ন উঠবেই—এই কাজ কার জন্য?
জনগণের একাংশ বলছে, তারা এর পেছনে একটি সূক্ষ্ম বার্তা দেখছেন—ধর্মীয় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার নামে ইসলামি আবেগকে উপেক্ষা করা। কেউ কেউ মনে করছেন, এটা হয়তো আন্তর্জাতিক মহল বা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি সদয় হওয়ার প্রয়াস। তবে প্রশ্নটা থেকেই যায়—বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কি আদৌ চায় টাকার ওপর মন্দিরের ছবি?
নোটে পরিবর্তন আসতেই পারে। ডিজাইনও নতুন হতে পারে। কিন্তু ঈদের সময়টাকে বেছে নেওয়ার পেছনে কি ভাবনা কাজ করেছে? এমন একটি সময়ে, যখন মুসলমানরা তাকওয়া, আত্মত্যাগ আর ইবাদতে মনোযোগী, তখন রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন এক সিদ্ধা ওইন্ত কি কিছু মানুষের মনে প্রশ্ন তোলে না?
একটি খোলা । প্রশ্নরাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বার্তা থাকে। এই বার্তা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে সেটা কার জন্য, কার উদ্দেশ্যে—এই প্রশ্নগুলো স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।
আমরা কোনো উত্তেজনা চাই না, চাই না ধর্ম নিয়ে বিভাজন। কিন্তু চাই, রাষ্ট্র যেন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, ঐতিহ্য ও আবেগকে সম্মান করে।
নতুন টাকা এসেছে, ডিজাইনও নতুন। এখন সময়—একটি পুরনো প্রশ্ন নতুন করে তোলার: “এই দেশ কার? এবং এই রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কাদের কথা মাথায় রেখে নেওয়া উচিত?”
সোর্সঃ দেশ টিভি