সাভারের মজিদপুরে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা—যেখানে বাবার চেতনা, সামাজিক মূল্যবোধ আর ধর্মীয় অবস্থান মুখোমুখি হয়েছে এক ভিন্ন জীবনের স্বপ্ন দেখানো মেয়ের ইচ্ছার সঙ্গে। ফলাফল: এক হৃদয়বিদারক মৃত্যু, একটি মিথ্যা অভিযোগ—আর একটি পরিবার চিরতরে ধ্বংস।
নিহত আব্দুস সাত্তার, নাটোরের সিংড়ার বাসিন্দা। তার মেয়ে জান্নাতুল জাহান শিফা ও দুই বান্ধবীকে নিয়ে থাকতেন সাভারের একটি ভাড়া বাসায়। জানা যায়, শিফা ও তার বান্ধবীদের মধ্যে সমকামী (লেসবিয়ান) সম্পর্ক গড়ে ওঠে—যা একাধারে তার ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পারিবারিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
ইসলাম ধর্মে সমকামী সম্পর্ক হারাম এবং স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। অনেক পিতা-মাতার মতোই, আব্দুস সাত্তার এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। এবং সেখান থেকেই শুরু হয় পারিবারিক সংঘাত।
তদন্তে উঠে এসেছে, শিফা তার বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে, পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। কিন্তু ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। হত্যার পর, হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে এবং নিজেকে ‘ভিকটিম’ প্রমাণ করতে, শিফা নাটোর আদালতে ২০২৩ সালে বাবার নামে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। প্রাথমিক তদন্তে মিথ্যা অভিযোগের কোনো ভিত্তি মেলেনি। বরং হত্যার পেছনে স্পষ্ট কারণ—সমকামী সম্পর্ক এবং জীবনযাপনে পিতার বাধা।
আজকের সমাজে ব্যক্তি স্বাধীনতা বনাম পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। LGBTQ+ জীবনধারাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে, যার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড একটি করুণ দৃষ্টান্ত।
“সমাজে সম্পর্কের জটিলতা, তরুণদের জীবনচিন্তা এবং ধর্মীয় নৈতিকতার দ্বন্দ্ব — সবকিছুই যেন এক দুঃস্বপ্নের রূপ নিয়েছে মজিদপুরের ওই বাসায়। এক সন্তান নিজ পিতাকে হত্যা করে নিজের জীবনকেই অন্ধকারে ঠেলে দিল।”
এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয় — এটি এক মূল্যবোধ, এক বিশ্বাস এবং একটি সমাজের আত্মপর্যালোচনার মুহূর্ত।