মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মূনকে ডিটেনশনের অভিযোগ, জামিন কার্যকরের পর নিখোঁজের দাবি
আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর ঘটনার পর এবার মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মূনের বিরুদ্ধেও ডিটেনশন দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে—এমন অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার ও স্বজনরা।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ২৫ জানুয়ারি মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মূনের জামিনসংক্রান্ত সব কাগজপত্র—নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের আদেশসহ—যথাযথভাবে সিলেট জেলা কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় কারা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণে বিলম্বের কথা জানালেও পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলে, পরদিন সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে জামিন কার্যকর করে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। এই আশ্বাসে পরিবার সেদিন কারাগার ত্যাগ করে।
পরদিন ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা কারাগারে উপস্থিত হলে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ৯টার দিকে সাতজন বন্দির জামিন কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মূনের নামও রয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কারাগার থেকে বের না হলে তার বড় ভাই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কারা কর্মকর্তা রসরঞ্জন বিষয়টি যাচাইয়ের কথা বলে ভেতরে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে জানান—মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মূনকে একটি ‘অজ্ঞাত বাহিনী’ জেলগেট থেকেই তুলে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিলে পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে সিলেট শহরের বিভিন্ন থানায় খোঁজ নেওয়ার এক পর্যায়ে পরিবার জানতে পারে, দক্ষিণ সুরমা থানায় তার বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় একটি নতুন মামলা দেখিয়ে ডিটেনশনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালত থেকে মামলার নথি সংগ্রহ করতে গেলে নকল শাখা ও দক্ষিণ সুরমা থানার নন-জিআর অফিস জানায়—উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে এই মামলার কোনো নকল কপি দেওয়া যাবে না।
পরিবার ও স্বজনদের মতে, জামিনপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে এভাবে গোপনে সরিয়ে নেওয়া, নতুন মামলা সাজিয়ে ডিটেনশনের চেষ্টা করা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে মুফতি আব্দুল্লাহ মায়মূনের বর্তমান অবস্থান প্রকাশ ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
https://shorturl.fm/qMhib
https://shorturl.fm/LWQQ8
https://shorturl.fm/QcmUE